Site icon হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে রান্নার সরঞ্জাম, খাবার টেবিল ও বিছানা নিয়ে প্রশ্ন

আহসান হাবিব নীলু, কুড়িগ্রাম

সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালকের কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে রান্না ও খাবার পরিবেশনের সরঞ্জাম, খাবার টেবিল-চেয়ার এবং বিশ্রামের জন্য বিছানা রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অফিসের কক্ষগুলো কী প্রয়োজনে এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দাপ্তরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, কারি কুকার, থালা-বাসনসহ রান্না ও খাবার পরিবেশনের বিভিন্ন উপকরণ রাখা হয়েছে। কোনো কক্ষে খাবার তৈরির সরঞ্জাম, আবার কোথাও খাবার টেবিল ও চেয়ার রয়েছে। এমনকি একটি কক্ষে বিশ্রামের জন্য বিছানাও দেখা যায়।

একটি সরকারি দপ্তরের ভেতরে এ ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং এসব সামগ্রী কার—তা নিয়ে সেবাগ্রহীতা ও অফিস স্টাফদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারি কার্যালয়ের জায়গায় এসব সরঞ্জাম রাখার অনুমতি কে দিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু বলেন, সরকারি অফিস মূলত জনগণকে সেবা প্রদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান। সেখানে ব্যক্তিগত আবাসিক ব্যবহারের মতো পরিবেশ তৈরি হলে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ ও আসবাবপত্র জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। এসব স্থানের ব্যবহার সরকারি বিধিবিধান ও দাপ্তরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, “বিষয়টা তেমন না, তবে মাঝে মধ্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এটাকে অনিয়ম বলা যাবে না।”

অন্যদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি খাইরুল আনম বলেন, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এমন পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

সরকারি কার্যালয়ের কক্ষগুলোতে এসব সামগ্রী রাখার অনুমতি, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ সংবাদ

Exit mobile version