বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসায় তালা, সুপারসহ দুজন অবরুদ্ধ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ন / ০
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসায় তালা, সুপারসহ দুজন অবরুদ্ধ

ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অফিসকক্ষে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান। এ সময় তালাবদ্ধ কক্ষের সামনের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে গত ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বেতন না পাওয়ায় পরিবার চালানো ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে বিরোধ চলছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ওপর। ছয় মাস ধরে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। বকেয়া বেতন-ভাতার সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

সহকারী শিক্ষক রত্না পারভীন বলেন, বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার পরিচালনা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই তাঁরা বিক্ষোভে নেমেছেন।

সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। বেতন পেলে তাঁরা আবার পাঠদানে ফিরবেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান বলেন, তিনি শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখেননি। বেতন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান সেগুলো নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে সুপারের অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সুপার বেতন দেবেন—এতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। সুপার তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য মাদ্রাসার সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ