বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ২০ একরের সুপারি বাগান, বছরে আয় কোটি টাকার কাছাকাছি

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামে একই পরিবারের চার ভাই মিলে গড়ে তুলেছেন বিশাল সুপারি বাগান। প্রায় ২০ একর জমিতে ৫০ হাজারের বেশি সুপারি গাছ লাগিয়ে প্রতি মৌসুমে তারা আয় করছেন প্রায় কোটি টাকা। পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে চুইঝাল, লটকন ও পানপাতা চাষ করে অতিরিক্ত আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, এটি রংপুর বিভাগের সবচেয়ে বড় সুপারি বাগান। অনেকে এটিকে দেশের বৃহত্তম সুপারি বাগান বলেও দাবি করেন। বাগানটি শুধু পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতাই বাড়ায়নি, সৃষ্টি করেছে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও। পাশাপাশি সুপারির চারা বিক্রি করেও ভালো লাভ করছেন উদ্যোক্তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধণঞ্জয় গ্রামের মৃত বাব উল্যাহ প্রায় ৭০ বছর আগে প্রথম তিন একর জমিতে সুপারি গাছ রোপণ করেন। এলাকার মাটি সুপারি চাষের উপযোগী হওয়ায় ধীরে ধীরে তার চার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা বাগানের পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে প্রায় ২০ একর জমিতে বিস্তৃত হয়েছে এই সুপারি বাগান।

বিজ্ঞাপন

বাগানে কর্মরত শ্রমিক স্বাধীন মিয়া বলেন, “আমরা সারা বছর এই বাগানে কাজ করতে পারি। এতে আমাদের সংসার ভালোভাবে চলে। প্রতিদিন ভোর থেকে বাগানের পরিচর্যা করি। সুপারি বড় হলে সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়।”

আরেক শ্রমিক শ্রী চঞ্চলা রাণী বলেন, “আমি বারো মাস এই বাগানে কাজ করি। এখান থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালাই, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি এবং মেয়েদের বিয়েও দিয়েছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন মিয়া জানান, চার ভাইয়ের সফলতা দেখে তিনিও ছোট পরিসরে সুপারি বাগান করেছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় এলাকায় সুপারি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

চারা বিক্রেতা আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমি নিয়মিত এখান থেকে সুপারির চারা কিনে বাজারে বিক্রি করি। এই বাগানের চারা ও সুপারির চাহিদা অনেক বেশি।”

বাব উল্যাহর ছেলে হানিফুল ইসলাম জানান, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তার বাবা প্রথম সুপারি চাষ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা বাগানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি চুইঝাল, লটকন ও পানপাতার চাষও শুরু করেন। বর্তমানে বাগানে প্রায় ৫০ হাজার সুপারি গাছ রয়েছে।

বাব উল্যাহর নাতি তৌফিক আহমেদ শাহীন বলেন, “চাচা-ভাতিজারা মিলে আমরা এই বাগান পরিচালনা করছি। প্রতি মৌসুমে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি হয়। এছাড়া সাথী ফসল থেকে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। এই বাগানের মাধ্যমে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন বলেন, “রংপুর অঞ্চলের মধ্যে কুড়িগ্রামেই সবচেয়ে বেশি সুপারি চাষ হয়। চলতি মৌসুমে জেলার ১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৩৯৫ মেট্রিক টন। অল্প পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের আমরা সুপারি বাগানের পাশাপাশি চুইঝাল, লটকনসহ বিভিন্ন সাথী ফসল চাষে উৎসাহিত করছি।”

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: · · · · ·

আরও সংবাদ

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েলকে কেন্দ্রের শোকজ

নভেম্বর 4, 2026

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।   গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জুয়েলের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতিবিরোধী অবস্থান গ্রহণ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কার্যকলাপে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ […]

নীতিগত বিচ্যুতি ও একনায়কতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এনসিপি নেতা নুরন্নবীর পদত্যাগ

নভেম্বর 1, 2026

নিউজ ডেস্ক | Hamar Kurigram দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আদর্শিক বিচ্যুতি ও একনায়কতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরন্নবী সরকার পদত্যাগ করেছেন। দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের এ ঘোষণা […]

ফিড-ওষুধ ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে চাপে কুড়িগ্রামের পোল্ট্রি খামারিরা

অক্টোবর 31, 2026

হুমায়ূন কবীর সূর্য | Hamar Kurigram ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে পোল্ট্রি খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। এতে জেলার পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে বর্তমানে ২৭৫টি […]