Site icon হামার কুড়িগ্রাম

উলিপুরে ২৬৮ বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই

উলিপুর প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ২৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এতে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকেরা। ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম; শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উলিপুরের ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৩৬ হাজার ২৫০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১৭ হাজার ১৭৬ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭৪ জন। অর্থাৎ উপজেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক নেই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে কতজন শিক্ষক প্রেষণে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কিংবা বিভাগের বাইরে কর্মরত রয়েছেন, সে বিষয়ে শিক্ষা অফিসে হালনাগাদ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত জনবল পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাভলী বেগম বলেন, প্রতিদিন তাঁকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের চাপ ও দাপ্তরিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মাদারটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ ফারুকী বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে ইতিমধ্যে নতুন শিক্ষক যোগদান করেছেন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে।

কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ

Exit mobile version