রাজারহাটে ২১ বছর ধরে অসহায় মানুষের পাশে কাজল


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন / ০
রাজারহাটে ২১ বছর ধরে অসহায় মানুষের পাশে কাজল

রাজারহাট প্রতিনিধি

নিজের আয় সীমিত, তবু অসহায় মানুষের সেবায় নিয়মিত সময় ও অর্থ ব্যয় করেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রায়হানুর রহমান কাজল (৩৯)। প্রায় ২১ বছর ধরে তিনি অসহায় মানুষের গোসল, চুল-দাড়ি ও নখ কাটানো, খাবার এবং পোশাকের ব্যবস্থা করে আসছেন। এ কাজে তাঁকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেন স্ত্রী মারুফা আক্তার লিপি।

কাজল নাজিমখান ইউনিয়নের বেটুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। নাজিমখান বাজারে তাঁর ভুসি, মাছের খাদ্য ও ওষুধের ছোট দোকান রয়েছে। দোকানের আয় থেকেই চলে তাঁর সংসার। এর মধ্যেও মানুষের সেবায় মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ করেন বলে জানান তিনি।

কাজলের এ উদ্যোগের শুরু ২০০৫ সালে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বাজারে আসা-যাওয়ার সময় অসহায় মানুষদের অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ঘুরতে দেখতেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০১১ সালে দোকান দেওয়ার পর সেবার কাজ আরও নিয়মিত করেন।

কাজলের ভাষ্য, এ পর্যন্ত প্রায় ১২০ জনকে তিনি সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন। বর্তমানে নিয়মিত চারজনের খোঁজখবর রাখেন। তাঁদের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও পোশাকের ব্যবস্থা করেন।

রাসেল নামে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা থাকা এক তরুণকে প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছেন কাজল। রাসেলের খাবার ও পোশাকের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও সহযোগিতা করেন। তাঁকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় গেলে সঙ্গে নিয়ে যান।

কাজলের স্ত্রী মারুফা আক্তার লিপি বলেন, স্বামীর এই উদ্যোগে তিনি সব সময় উৎসাহ দেন। কখনো সেবাপ্রত্যাশীরা বাড়িতে এলে তাঁদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, নাজিমখান বাজারে অসহায় কাউকে দেখলে কাজল তাঁর খোঁজ নেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করেন। নাজিমখান ছালামিয়া নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অনেকেই অসহায় মানুষদের এড়িয়ে চলেন, কিন্তু কাজল তাঁদের আপন করে নিয়েছেন।

নিজের কাজ সম্পর্কে রায়হানুর রহমান কাজল বলেন, “আমি তাঁদের আপন মানুষ মনে করি। তাঁদের সেবা করলে মনের তৃপ্তি পাই। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এই কাজ করে যাব।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. ববিতা খাতুন বলেন, অসহায় ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো মহৎ কাজ। সমাজের অবহেলিত মানুষের যত্ন নেওয়া ব্যক্তিরা সবার সহযোগিতা ও সম্মানের দাবিদার।

কুড়িগ্রামের আরো খবর