
মুনতাসীর বিল্লাহ তানিম, নাগেশ্বরী
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পূর্বশত্রুতার জেরে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া ও এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নাগেশ্বরী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. বেলাল হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের পূর্ব সুখাতী গিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিরোধের মীমাংসা হলেও বিবাদীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মো. হাসান, মো. নূর ওরফে মোকাদ্দেস, মো. মোতালেবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ছোরা ও দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেলালের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন এবং বেলাল ও তাঁর স্ত্রী লাবনী বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিবাদ করায় লাবনী বেগমকে টেনেহিঁচড়ে এক বিবাদীর বাড়ির আঙিনায় নিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বেলাল হোসেনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লাবনী বেগমের মাথার বাম পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই সময় লাবনী বেগমের গলায় থাকা আনুমানিক ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম, দারোগ আলী, ফরহাদ কমান্ডারসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। এ সময় বিবাদীরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত বেলাল ও তাঁর স্ত্রীকে স্থানীয়দের সহায়তায় নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে লাবনী বেগম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নাগেশ্বরী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে সংবাদটি হালনাগাদ করা যাবে।
কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ
আপনার মতামত লিখুন :