
রাজারহাট প্রতিনিধি
নিজের আয় সীমিত, রয়েছে ছোট্ট একটি দোকান। সেই দোকানের আয় থেকেই প্রতি মাসে একটি অংশ ব্যয় করেন অসহায় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা মানুষের সেবায়। কখনো তাঁদের গোসল করিয়ে দেন, কখনো কেটে দেন হাত-পায়ের নখ, আবার কখনো নিজের হাতে খাইয়ে দেন খাবার। এভাবেই প্রায় দুই দশক ধরে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রায়হানুর রহমান কাজল।
৩৯ বছর বয়সী কাজল উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বেটুবাড়ি গ্রামের মৃত গমির উদ্দিন আহমেদের ছেলে। নাজিমখান বাজারে তাঁর একটি ছোট ভুসির দোকান রয়েছে। সেখানে ভুসি, মাছের খাবার ও ওষুধ বিক্রি করে চলে তাঁর সংসার। সীমিত আয়ের মধ্যেও অসহায় মানুষের সেবায় প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা ব্যয় করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বাবার সঙ্গে নাজিমখান বাজারে যাতায়াতের সময় কাজল প্রায়ই অসহায় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা মানুষদের দেখতেন। তাঁদের অপরিচ্ছন্ন পোশাক, অযত্নে থাকা চুল-দাড়ি ও বড় হয়ে যাওয়া নখ দেখে তাঁর মনে কষ্ট হতো। একপর্যায়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০১১ সালে বাজারে নিজের দোকান দেওয়ার পর সেবার কাজটি নিয়মিতভাবে শুরু করেন কাজল। এরপর থেকে বাজার কিংবা আশপাশে এমন কাউকে দেখলেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। গোসল করানো, নখ কেটে দেওয়া, চুল-দাড়ি ছেঁটে দেওয়া, খাবার খাওয়ানো এবং নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার মতো কাজ করেন তিনি।
কাজলের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ১২০ জনকে সেবা দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নিয়মিত চারজনের দেখাশোনা করছেন।
কাজলের মানবিক উদ্যোগে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর স্ত্রী মারুফা আক্তার লিপি। স্বামীর কাজকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন তিনি।
লিপি বলেন, “আমার স্বামীকে সব সময় অনুপ্রাণিত করি। মাঝেমধ্যে তিনি অনেককে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমি তাঁদের খাবার খাওয়াই। তাঁর এই কাজকে আমি ভালো চোখে দেখি।”
কাজলের মানবিক উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ রাসেল। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী এই ছেলেকে প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছেন তিনি। রাসেলের খাবার, পোশাক ও দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করছেন নিজের অর্থে।
রাসেল নিজে কাপড় পরতে পারেন না। তাই দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজেও তাঁকে সহযোগিতা করেন কাজল। শুধু খাবার ও আশ্র
কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ
আপনার মতামত লিখুন :