
মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি বাসার ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল কর্তনের উদ্যোগ এবং সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন কুড়িগ্রাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা শাহিনা খাতুন ও প্রতিমা রানী সরকারকে সরকারি পরিত্যক্ত বাসায় বসবাস না করায় বেতন থেকে বাসাভাড়া কর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রতিমা রানী সরকারের অভিযোগ, তাঁকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাঁর স্বামী-সন্তানকে নিয়েও কথা বলা হয়। অন্যদিকে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা শাহিনা খাতুনের দাবি, উপপরিচালক মোজাম্মেল হকের লিখে দেওয়া একটি স্বীকারোক্তিমূলক কাগজ তাঁকে দিয়ে হুবহু লেখানো হয় এবং এ সময় চাপ প্রয়োগ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক ও তৎকালীন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোদাব্বের হোসেন সরকারি কোয়ার্টারগুলো বসবাসের অনুপযোগী উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন। এরপরও ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল কর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ ছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, উপপরিচালক মোজাম্মেল হক বিভিন্ন কর্মস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অধস্তনদের ভয়ভীতি দেখান। চাহিদামতো সুবিধা না দিলে দূরবর্তী স্থানে বদলির হুমকি এবং আর্থিক সুবিধা বা উপঢৌকনের বিনিময়ে পছন্দের স্থানে বদলির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
উপপরিচালকের বিরুদ্ধে প্রেষণে কর্মরত কর্মচারী মো. মাহবুবুর রহমান মীমকে দিয়ে বদলি ও নিয়োগসংক্রান্ত ফাইলসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং সরকারি বিদ্যুৎ ও গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সরকারি বাসার বসবাসযোগ্যতা-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, বেতন থেকে অর্থ কর্তনের আদেশ, বদলিসংক্রান্ত নথি এবং সরকারি গাড়ির লগবুক পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুড়িগ্রামের সর্বশেষ খবর
আপনার মতামত লিখুন :