বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

২ লক্ষ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বিপক্ষে রায়; রংপুর জোনাল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

ফজলুল করিম ফারাজী ।। হামার কুড়িগ্রাম

ঘুষ না পেয়ে ব্যাকডেটে রায় প্রদান, নোটিশ গোপন, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা, নাজির তোফাজ্জল হোসেন, পেশকার মোঃ শামীম হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার লতিফুর রহমান।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা লুৎফর রহমান গত ৬ মে মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির ডকেট নম্বর-০৬০০৭। একই ধরনের অভিযোগ ৭ মে দায়ের করেন ইনছার আলী নামে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য। উভয়ের জমি চর-ভূরুঙ্গামারী মৌজার জে.এল নং-৫০ এলাকায় অবস্থিত।

অভিযোগে বলা হয়, ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেসে বিবাদীপক্ষ ১৯৭০ সালের একটি কথিত আমোক্তানামা দলিল উপস্থাপন করলেও বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালের বৈধ দলিলের মাধ্যমে মোট ২ দশমিক ৫০ একর জমি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ওই জমি সাব-কবলা দলিলমূলে ক্রয় করেন লুৎফর রহমান গং। পরে নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও রেকর্ড সংশোধনসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নামে ডি.আর.এ রেকর্ড ও ডি.পি খতিয়ান প্রস্তুত হয়।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, ৩১ ধারার শুনানিকালে ২০২০ সালে ভূরুঙ্গামারী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে উভয় পক্ষ হাজির হয়ে কাগজপত্র দাখিল করলেও অভিযোগ রয়েছে, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ লতিফুর রহমান ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২১ সালের ৭ মার্চ লুৎফর রহমানকে গরহাজির দেখিয়ে তার রেকর্ডীয় ১ দশমিক ৬২ একর জমি থেকে ১ দশমিক ৪২ একর কর্তন করে বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেওয়া হয়।

এরপর প্রতিকার চেয়ে লুৎফর রহমান ৪২(ক) ধারায় আবেদন করলে তা ৯৩/২৩ নম্বর মিসকেস হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলাটি চলমান থাকায় একবার নথিজাত করা হলেও পুনরায় আবেদনের পর মামলাটি সচল করা হয়। সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার নাজমুল হুদা জানান, বিবাদীপক্ষের ১৮৭৩৮/৭০ নম্বর আমোক্তানামা দলিলের সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। পরে ১৪ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পরপর দুটি চিঠি দিয়ে দলিলের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।

অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় জোনাল অফিসারের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি তাকে জানান, “জোনাল স্যারকে দুই লাখ টাকা দিলে আপনার পক্ষে রায় হবে।” এরপর তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর যোগাযোগ না করে অফিসে পেশকার শামীম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আদেশ হয়েছে জানতে পেরে রায়ের কপি তুলে দেখেন, তার বিপক্ষে ও ব্যাকডেটে রায় দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দলিল সংক্রান্ত চিঠিপত্র পাঠানো হলেও রায়ে ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে বৈধ দলিল, নামজারি, খারিজ ও খাজনা থাকলেও রায়ে দলিলের ধারাবাহিকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের নামে খারিজ না থাকলেও তাদের নামে খারিজ রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রায়ের তথ্য গোপন রেখে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এখন আর যোগাযোগ করে লাভ হবে না। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আপনার বিপক্ষে রায় দিয়েছে। যারা টাকা দিয়েছে তাদের পক্ষে রায় হয়েছে, আর যারা টাকা দেয়নি তাদের বিপক্ষে রায় গেছে।”

লুৎফর রহমান বলেন, “আমার সি.এস, এস.এ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দলিল, নামজারি ও খাজনার কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় বিবাদীপক্ষের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে আমার বিপক্ষে ও ব্যাকডেট দিয়ে রায় দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, রায়ের পর জোনাল অফিসারের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, “যা রায় দিয়েছি, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। রায়ে অসন্তুষ্ট হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যান। এছাড়া সরকারের দপ্তর খোলা আছে। আমি যদি সব রায় সঠিকভাবে দিই, তাহলে আদালত বা অন্য দপ্তর কী করবে?”

এদিকে, ইনছার আলীও অভিযোগ করেছেন, ঘুষ না দেওয়ায় যথাযথ নোটিশ ছাড়াই তার জমি সংক্রান্ত মামলার নথিজাত ও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীরা মহাপরিচালকের কাছে মিসকেস নং-৯৩/২৩ ও সংশ্লিষ্ট আপিল কেসের রায় বাতিল, ডি.পি খতিয়ান বহাল এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রংপুর জোনাল সেটেলমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ৭১০টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মৌজা থেকেই লাখ টাকা ঘুষের দুটি অভিযোগ দাখিল হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, আমি সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি।

এছাড়া আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: · · · ·

আরও সংবাদ

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েলকে কেন্দ্রের শোকজ

নভেম্বর 4, 2026

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।   গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জুয়েলের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতিবিরোধী অবস্থান গ্রহণ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কার্যকলাপে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ […]

নীতিগত বিচ্যুতি ও একনায়কতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এনসিপি নেতা নুরন্নবীর পদত্যাগ

নভেম্বর 1, 2026

নিউজ ডেস্ক | Hamar Kurigram দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আদর্শিক বিচ্যুতি ও একনায়কতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরন্নবী সরকার পদত্যাগ করেছেন। দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের এ ঘোষণা […]

ফিড-ওষুধ ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে চাপে কুড়িগ্রামের পোল্ট্রি খামারিরা

অক্টোবর 31, 2026

হুমায়ূন কবীর সূর্য | Hamar Kurigram ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে পোল্ট্রি খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। এতে জেলার পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে বর্তমানে ২৭৫টি […]