
রৌমারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজে ১৯ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া ২৪ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, চরশৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে ২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এর আগে, ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। ফলে টানা দুই বছর ধরে কলেজটির ফলাফল শূন্যের কোঠায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে। তবে কলেজের অধ্যক্ষ ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহকে দায়ী করেছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জনের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর সংসারের কাজের চাপ এবং পড়াশোনার প্রতি পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় তারা পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা না পেলেও কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয়। তবে অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। সংসারের কাজের চাপে পরীক্ষার আগে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না।
এদিকে, কলেজে ১৯ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুর রব বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন এমন ফলাফল হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কোনো অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
টানা দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় কলেজটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ
আপনার মতামত লিখুন :