
হুমায়ূন কবীর সূর্য | Hamar Kurigram
ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামে পোল্ট্রি খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। এতে জেলার পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে বর্তমানে ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব ডিম দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের খেজুরের তল এলাকার মুন্সি পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম জানান, তাঁদের খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগি রয়েছে। ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে অনেক সময় ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। এতে কাঙ্ক্ষিত লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় লোকসান হচ্ছে।
খামারের কর্মচারী একরামুল হক ও মিলন চন্দ্র জানান, ভোর থেকে দিনভর পরিশ্রম করেও তাঁরা কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ডিমের দাম কমে গেলে খামারমালিকদের লোকসান বাড়ে। আর লোকসান সামাল দিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী রিটু বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে পোল্ট্রি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামারিদের টিকিয়ে রাখতে ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিদ্যুতের পরিবর্তে কৃষকদের মতো বিশেষ হারে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পোল্ট্রি খাতেও পড়েছে। সরকার ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে খামারিরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খামারিদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা না গেলে জেলার পোল্ট্রি শিল্প আরও সংকটে পড়তে পারে।
কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ
আপনার মতামত লিখুন :