নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম
উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকার একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই বাঁধে ধসের লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান জানান, মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাটসহ ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে, বন্যার পানিতে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলার প্রায় ২০৪ হেক্টর জমির বীজতলা, পাট এবং বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন জানান, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, দুর্গত মানুষের সহায়তায় দুই লাখ টাকা, ১ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।






