মোঃ আবু সাঈদ ইসলাম, নাগেশ্বরী
কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত কচাকাটা উপজেলার নদীবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মারচর (পাগলার বাজার) এলাকায় হালিমা খাতুন (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হালিমা খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মণ্ডলের মেয়ে। পারিবারিক নানা কারণে সে দীর্ঘদিন ধরে দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সারাদিন হালিমা তার দাদা-দাদির সঙ্গে পাশের বাজারে তাদের হোটেল ব্যবসার কাজে ছিল। সন্ধ্যার দিকে বাইরে যাওয়ার কথা বলে সে বাজার থেকে বের হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার দাদি বেইলা বেগম ঘরে গিয়ে দেখতে পান, বিছানার ওপর বাঁশের ধরনায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে হালিমা।
দাদির চিৎকারে প্রতিবেশী আল-আমিন, দেলবার হোসেন, সাইদুল হক, চাচা জিয়াউর রহমান জিয়া ও দাদা আরমান মণ্ডলসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মরদেহটি নিচে নামান। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য, চৌকিদার ও চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, খবর পেয়ে তিনি কচাকাটা থানাকে অবহিত করেন। শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হালিমার বাবা হেলাল মণ্ডল জীবিকার তাগিদে টাঙ্গাইলে অবস্থান করছেন। ঈদের আগে বাড়িতে এসে চারদিন অবস্থান করার পর পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যান। তার মা আমেলা বেগম প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিক বিচ্ছেদের পর অন্যত্র বিয়ে করেন। নদীভাঙনের কারণে পরিবারটি বর্তমানে সরকারি আবাসনের টিনশেড ঘরে বসবাস করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের সদস্য কবিরুল ইসলাম কবির বলেন, “এতটুকু একটি শিশুর পক্ষে এমন ঘটনা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অর্পণ কুমার দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের চাচা জিয়াউর রহমান একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-৫, তারিখ ০৬ জুন ২০২৬। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






