কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে একটি কালভার্ট ভেঙে সড়কের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে তিনটি আবাসন, একটি মাদরাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচ শতাধিক পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল এলাকার আনন্দ বাজার থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পগামী সড়কে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হলে গত সোমবার (২৯ জুন) গভীর রাতে কালভার্টটি ধসে পড়ে। একই সঙ্গে সড়কের আরও দুটি স্থানে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পশ্চিম পাশে ধরলা নদীর অরক্ষিত তীর থাকায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি সরাসরি সড়কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। স্বল্প দৈর্ঘ্যের কালভার্ট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হওয়ায় তীব্র স্রোতে কালভার্টসহ সড়কের বড় অংশ ধসে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দক্ষিণ পাশে তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এছাড়া একটি মাদরাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আশপাশের আরও প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ এটি। সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ছালাম (৫০) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চরগোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এক রাতের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের স্রোতেই কালভার্টটি ধসে পড়েছে। এখন কোমরসমান পানি পেরিয়ে কাঁধে সাইকেল নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা শাহিনা বেগম (৫৫) বলেন, গত নয় দিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছি। কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ভিজে যাতায়াত করছে। এখানে তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। তাই দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অথবা বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি।
খয়ের জামাল (৬০) বলেন, এক রাতের বৃষ্টি ও উজানের ঢলেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভাঙা সড়কের কারণে জরুরি প্রয়োজনেও কোথাও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্কুলশিক্ষার্থী নাঈম মিয়া জানায়, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বিকল্প পথ না থাকায় প্রতিদিনই পানিতে ভিজে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, চরগোরকমন্ডল এলাকার কালভার্ট ধসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি সেতুসহ সড়ক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজ দৌল্লা বলেন, চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে বড় পরিসরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






