বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও স্বীকৃতিহীন ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার মানুষ আজও বেদনাভরা হৃদয়ে স্মরণ করে ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বরের ভয়াবহ সেই দিনটিকে — “হাতিয়া গণহত্যা দিবস”। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে প্রতি বছর পালন করা হলেও, এখনো তা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়নি।

রক্তে রাঙানো ভোর- ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর, শনিবার। রমজান মাসের ২৩ তারিখ। ভোররাতে যখন গ্রামের মানুষ কেউ সেহরি খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, কেউ বা ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন— তখনই নেমে আসে বিভীষিকার সেই কালরাত্রি। আগের দিন কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেনে করে প্রায় পাঁচ শতাধিক পাকিস্তানি সেনা উলিপুরের পথে রওনা দেয়। পথিমধ্যে তারা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে হাতিয়া ইউনিয়নের দিকে এগিয়ে আসে।
এরপর শুরু হয় অবিরাম মর্টার হামলা ও গুলিবর্ষণ। মুহূর্তেই কেঁপে ওঠে দাগারকুটি, বাগুয়া অনন্তপুর, হাতিয়া বকশী, রামখানা, নয়াদাড়া, নীলকণ্ঠ, যমুনা ও মন্ডলেরহাটের জনপদ। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আল-শামস সদস্যরা নির্বিচারে হত্যা শুরু করে নিরীহ মানুষদের ওপর।

নৃশংসতার সীমা ছাড়ানো হত্যাযজ্ঞ- প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ধানক্ষেত বা নদীর পাড়ে আশ্রয় নেন। কেউ কেউ ব্রহ্মপুত্রের জলে ঝাঁপ দেন মুক্তির আশায়, কিন্তু অধিকাংশই ফেরেননি। অসহায় গ্রামবাসীর আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। দাগারকুটি গ্রামে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ৬৯৭ জন মানুষকে। এমনকি মায়ের কোলের শিশুটিও রক্ষা পায়নি। সেদিনের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় শতশত ঘরবাড়ি, ধ্বংস হয় গৃহস্থালির স্বপ্ন। পুরো হাতিয়া অঞ্চল পরিণত হয় মৃত্যুপল্লীতে।

বিজ্ঞাপন

ভাঙনের সঙ্গে ভেসে গেছে স্মৃতিও- স্বাধীনতার পর স্থানীয়ভাবে শহিদদের স্মরণে দাগারকুটি গ্রামে নির্মিত হয় একটি স্মৃতিসৌধ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সেই গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে অনন্তপুর বাজারের পশ্চিম পাশে নতুন করে স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলা হয়, যেখানে প্রতি বছর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় স্বীকৃতির প্রত্যাশা- হাতিয়া গণহত্যার স্বজনদের কাছে এ দিবস কেবল শোকের নয়, বরং এক অবহেলিত ইতিহাসের সাক্ষ্য। তারা আজও আশা করেন— একদিন হয়তো সরকার এই দিনটিকে “জাতীয় হাতিয়া গণহত্যা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে স্বাধীনতার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ কী ভয়াবহ মূল্য দিয়েছে। স্বীকৃতি শুধু একটি দিবসের নয়— এটি হবে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক, শহিদদের প্রতি জাতির সম্মিলিত শ্রদ্ধা।

লেখক: জাহাঙ্গীর আলম শাকিল

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: · · · ·

আরও সংবাদ

রেলের পতিত জমি হতে পারে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার

আগস্ট 7, 2026

সম্পাদকীয় | Hamar Kurigram বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। রেলের নিজস্ব বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকলেও এর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত কিংবা বেদখল অবস্থায় রয়েছে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৩১ হাজার ৮৬০ একর। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১ হাজার ৪ একর এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৩ হাজার ৩৮৭ একর জমি […]

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্ধারণে নালিয়ার দোলার কৌশলগত গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মে 13, 2026

নিউজ ডেস্ক অনলাইন | মতামত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তকে কেবল একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলে এর প্রকৃত গুরুত্ব আড়ালে থেকে যায়। বাস্তবে এটি উত্তরাঞ্চলের আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিকাশের একটি মৌলিক ভিত্তি। একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র অবকাঠামোগত ভবন নয়; বরং এর সঙ্গে প্রয়োজন বিস্তৃত গবেষণা ক্ষেত্র, পরীক্ষামূলক কৃষিখামার, […]

কুড়িগ্রামের কৃষকের কান্না কি কেউ শুনবে না?

মে 8, 2026

শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ | ডেস্ক নিউজ কুড়িগ্রাম দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি কৃষিসমৃদ্ধ জেলা। এ জেলায় মৌসুমভেদে ধান, গম, ভুট্টা, তিসি, মরিচ, পেঁয়াজ, চিনাবাদাম, সরিষা ও পটলসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-ধরলা অববাহিকায় অবস্থিত কুড়িগ্রামের চর ও চলাঞ্চলে এবার বোরো ধান, মরিচ, বাদাম, পেঁয়াজ ও পটলের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু বৈশাখের বৈরী আবহাওয়া কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের […]