নিজস্ব প্রতিবেদক | Hamar Kurigram
জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সেই সচেতনতা থেকেই কুড়িগ্রামের বুড়াবুড়ী এলাকায় ব্যতিক্রমী এক পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফিনিক্স – সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ সংগঠন। সংগঠনটির উদ্যোগে বুড়াবুড়ী বাজারের ফিনিক্স চত্বর থেকে ধুয়াশাল্লা জমের মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে খেজুরের বীজ বপন করা হয়েছে।
রোববার সকালে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল আজিম-এর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বী, সিনিয়র সদস্য মিলন মিয়া এবং সদস্য মোস্তাফিজ, নিশাদ ও এজধানী। এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে কর্মসূচিকে সফল করে তোলেন।
আয়োজকরা জানান, কৃত্রিমভাবে চারা রোপণের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে গাছ জন্মানোর সুযোগ সৃষ্টি করতেই খেজুরের বীজ বপনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বপন করা বীজ থেকে ভবিষ্যতে গাছ জন্মালে রাস্তার দুই পাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে উঠবে। এতে একদিকে পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে পথচারীরা ছায়া পাবেন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংগঠনের সভাপতি আব্দুল আজিম বলেন, “পরিবেশ রক্ষা শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, বরং মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের অবস্থান থেকে অন্তত একটি গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যা করা।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো সামাজিক সংগঠনকে এভাবে পরিবেশ রক্ষায় সরাসরি মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত হলে এলাকাজুড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতাও বাড়বে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রাস্তার পাশে দেশীয় বৃক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ কমানো, মাটির ক্ষয়রোধ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফিনিক্সের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সব সময় বড় বাজেটের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সচেতনতা এবং মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। আজ যে বীজ মাটিতে রোপণ করা হয়েছে, কয়েক বছর পর সেটিই হয়তো পথচারীদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে শীতল করবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।






