নিজস্ব প্রতিবেদক | হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের আট উপজেলার মধ্যে একমাত্র ভূরুঙ্গামারীতেই এখনও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হয়নি। আর সেই দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিতে হলো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুড়ে যায় অন্তত ৯৫টি দোকান। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের প্রধান বাজার ফকির মার্কেটের দক্ষিণ পাশে ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দোকানগুলোতে থাকা দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুরো মার্কেটজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বহু দোকান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ভূরুঙ্গামারীতে নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে আসত। দূরবর্তী উপজেলা থেকে ইউনিট আসতে সময় লাগায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া পাশের জাকের পার্টির কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, প্রসাধনী ও বইয়ের দোকান আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানের সামনে বসে অনেক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। চারদিকে ছড়িয়ে আছে পোড়া টিন, ছাই ও ধ্বংসস্তূপ। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
ভূরুঙ্গামারী ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া বলেন, “এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঈদ উপলক্ষে অনেকেই নতুন করে মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব। যদি এখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকত, তাহলে হয়তো এত বড় ক্ষতি হতো না।”
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভূরুঙ্গামারীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের কাজ আটকে আছে। অথচ ওই স্টেশনের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কুড়িগ্রাম সদর ও রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে পড়ে রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক তথ্যমতে ৯৫টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেলে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় তাঁদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ভূরুঙ্গামারীতে পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।






