বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

“তুই আবার মূষিক হও”: সাত কলেজ ইস্যুতে অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিনের সতর্ক বার্তা

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজকে ঘিরে চলমান বিতর্ক ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন এক নিবন্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কড়া সমালোচনা ও সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। “সাত কলেজ সমাচার : তুই আবার মূষিক হও” শিরোনামে লিখিত এ নিবন্ধে তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী না বুঝে, না জেনে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতকেই অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি লেখেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগতমান রক্ষার জন্য একটি সুচিন্তিত উদ্যোগ। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলছে। যে গাছের ডালে বসে আছে, সেই ডালই তারা কেটে ফেলছে।”

বিজ্ঞাপন

অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন ‘মূষিক হও’ গল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, “যেভাবে এক মুনি নির্বোধ মেয়েকে শেষমেশ আবার ইঁদুরে পরিণত করেন, ঠিক তেমনি পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই ফিরে যেতে বাধ্য হবে।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেন, ১৯৮৫ সালে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। কিন্তু তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সেই দাবি না মেনে রংপুরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। “আজ বুঝতে পারি, এরশাদ কতটা দূরদর্শী ছিলেন,” বলেন অধ্যক্ষ নাসির।

তিনি আরও বলেন, “ঢাকার সাত কলেজের নিজস্বতা নষ্ট হবে যদি সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে—বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেই সুযোগ চিরতরে হারিয়ে যাবে।”

প্রফেসর নাসির উদ্দিন তার লেখায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন—“তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে, সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নামে যদি কলেজগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছে—‘শিক্ষা ক্যাডার জানে কি, সেন্ট্রাল মানে কি?’—এই প্রশ্নই প্রমাণ করে তারা বিষয়টি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারছে না।”

একইসাথে তিনি “দরবেশ ও কৃতঘ্ন বিড়াল”-এর গল্পের উদাহরণ দিয়ে লেখেন, “যেভাবে কৃতজ্ঞতা হারিয়ে অহংকারে পতন ঘটে, শিক্ষার্থীদেরও তা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে, আর কৃতজ্ঞতা তাকে করে মহান।”

শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান—সব কিছু ভেবে, বিশ্লেষণ করে, যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে। বলেন, “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।”

লেখক:
অধ্যক্ষ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: ·

আরও সংবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য আমীর নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক আঃ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন

নভেম্বর 5, 2026

পোস্ট টি পড়া হয়েছে : 8

উলিপুরে আরআরএম ইপি নিয়োগ ঘিরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নভেম্বর 4, 2026

উলিপুর প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরআরএমইপি) আওতায় কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে […]

ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ শিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

নভেম্বর 4, 2026

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের দায়ে আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধরলা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫ […]