ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার আলোচিত শিশু আয়শা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মায়ের সঙ্গে দেড় মাস ধরে জেলা কারাগারে অবস্থান করছে দুই বছর বয়সী এক শিশু। গত ১ মে থেকে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের নারী ওয়ার্ডে রয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, শিশু আয়শা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এক নারী ও তার স্বামীকে গত ১ মে আটক করে পুলিশ। পরে ওই নারী আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নিজ বাড়ির পাশ থেকে শিশু আয়শার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারাবিধি অনুযায়ী শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুটিকে দুধ, ডিম ও অন্যান্য শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের দুটি নারী ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ১৮ জন হলেও বর্তমানে সেখানে ২১ জন নারী বন্দী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাদক মামলার ৯ জন, হত্যা মামলার ৮ জন এবং অন্যান্য মামলার আরও কয়েকজন আসামি রয়েছেন।
এদিকে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং মো. জিয়াউল হক-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দেশের সব কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও অবস্থার বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা) বলেন, কারাবন্দী মায়ের অপরাধের কারণে কোনো শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। কারাগারে অবস্থান করলেও শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বর্তমান ঘটনায় দুই বছর বয়সী শিশুটির কারাগারে অবস্থান নিয়ে মানবাধিকার ও শিশুকল্যাণ সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের সুযোগে শিশু মায়ের সঙ্গে থাকলেও তার সার্বিক বিকাশ ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ও সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন।
