সোনাহাট রেলসেতুতে ওভারলোড, নির্মাণাধীন সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন ও টোল আদায়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২৫, ৮:০৩ পূর্বাহ্ন /
সোনাহাট রেলসেতুতে ওভারলোড, নির্মাণাধীন সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন ও টোল আদায়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত

মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট রেলসেতুতে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণাধীন সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অবৈধ টোল আদায় রোধে উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম গত ১২ আগস্ট অভিযান পরিচালনা করেছে।

ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট সড়কে দুধকুমার নদীর ওপর পুরাতন রেলসেতু দিয়ে ৫০০ সিএফটির বেশি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিক সমিতির সদস্যরা নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে একটি প্রভাবশালী মহল এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেতু পারাপারের জন্য প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ৩০-৫০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। সেতুর ট্রাফিক ও টোল সংগ্রহকারীরা স্বীকার করেছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে রশিদ ছাড়া টোল আদায় চলছে। দৈনিক গড়ে ১০০টি ট্রাক চলাচলের হিসাব অনুযায়ী মাসে ৯০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ১০,৮০,০০০ থেকে ১৮,০০,০০০ টাকা আদায় হয়। চারজন ব্যক্তি এই কাজে যুক্ত থাকলেও প্রথমে তারা নিয়োগদাতার নাম অস্বীকার করে পরে জানান, ‘২৪৮৬ কমিটি’ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাদের দাবি, আদায়কৃত অর্থ তারা চারজন ভাগ করে নেন; তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই অর্থের একটি অংশ অন্যত্রও যায়।

পুরাতন সেতুটি অতিরিক্ত ওভারলোডের কারণে প্রায়ই পাটাতন ভেঙে পড়ে, যার ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুধকুমার নদীর ওপর অবস্থিত এই রেলসেতুটি পণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। স্থানীয় পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিও হয়। সেতুর দুরবস্থার কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পাশাপাশি, বিকল্প হিসেবে পাশের একটি সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও ধীরগতির কারণে তা সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও কার্যকর সমাধান মেলেনি।

অভিযোগের বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সেতুর পাটাতন ভেঙে জনভোগান্তি চলছে, মেরামতে ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে।”

১২ আগষ্ট বিকেলে অভিযানের সময় কিছু ট্রাক প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। চালক ও গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বহনকৃত পণ্যের ওজন পরীক্ষা করে একাধিক ট্রাককে ওভারলোড অবস্থায় পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর একটি টিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আল হেলাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।