
মোঃ মাইদুল ইসলাম || ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজে বুধবার (১৯ নভেম্বর) এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কলেজের শিক্ষক মণ্ডলী, শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার সরোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক এম.এ জলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজটি ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। যা উপজেলা বাসির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা।
নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান বিভাগের তানজিম হাসান তনয় ও মাহবুবা এবং মানবিক বিভাগের সৌরভ ও বিজ্ঞান বিভাগের আরফিনা। স্কাউটিং বিষয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন সিনিয়র রোভারমেট নয়ন মিয়া নাহিদ।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, কলেজে অনার্স কোর্স ও ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল চালুর দাবি তিনি বহুদিন ধরে করে আসছেন, কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, আন্দোলন ছাড়া দাবি আদায় হয় না।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবিদুর রহমান সাজিদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন, প্রভাষক গোলাম ফারুক সরকার, এ.বি.এম হাফিজুর রহমান, আহসান হাবীব, মহাদেব চন্দ্র সাহা, জাহিদুল ইসলাম, এম.এ জলিল, জোবায়দা খাতুন, রাশেদা খাতুন, সেলিনা খাতুনসহ অনেকে। উপস্থিত ছিলেন কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সম্পাদক মোঃ মুরাদ হাসান রেজুয়ানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ খন্দকার সরোয়ার হোসেন বলেন, কলেজ সরকারি হওয়ার পরে তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ইউনিফর্ম ব্যবহারসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, কলেজে তিন কক্ষের একটি হোস্টেল রয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তা চালু করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন।
একজন অভিভাবক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার গোলাম ফারুক বলেন, ভূরুঙ্গামারীর অন্যান্য কলেজে অনার্স কোর্স চালু হলেও উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ প্রাচীন কলেজে এখনো তা চালু হয়নি, যা দুঃখজনক। অনার্স কোর্স চালু হলে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ আরো সহজ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আপনার মতামত লিখুন :