হামার কুড়িগ্রাম

উলিপুরে ভূমি অফিসের তহশিলদারের বিরুদ্ধে ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

উলিপুর প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে জমির নামজারি ও ৩৬ বছরের বকেয়া খাজনা পরিশোধের কথা বলে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার পর আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান ও তাঁর শরিকদের মোট ৩৫ একর ৩১ শতক জমির নামজারি এবং খাজনা পরিশোধের বিষয়ে তহশিলদার আহসান হাবিবের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ সময় ৩৬ বছরের বকেয়া খাজনা বাবদ ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২২ সালের ১৪ মে থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে তিনি ও তাঁর শরিকেরা দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তহশিলদারকে মোট ১১ লাখ টাকা দেন। তবে টাকা গ্রহণের বিপরীতে যথাযথ রসিদ দেওয়া হয়নি এবং সরকারি কোষাগারে পুরো অর্থ জমা দেওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই অর্থের বিপরীতে মাত্র একটি খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ দেখিয়ে নামজারির কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে তহশিলদার অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে জমির কাগজপত্রে অসংগতি দেখতে পান ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে তাঁরা টাকা ফেরত চাইতে ভূমি অফিসে যান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে টাকা ফেরত চাওয়ায় তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সাক্ষী হিসেবে মো. আব্দুল মজিদ, মো. আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুল জব্বার ও মো. আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অর্থ ফেরত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তহশিলদার আহসান হাবিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অর্থ গ্রহণ ও সরকারি কোষাগারে জমার হিসাব পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

কুড়িগ্রামের সর্বশেষ সংবাদ

Exit mobile version