আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের সীমান্ত দিয়ে এস্কাফ সিরাপ ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের পাচার এবং অপব্যবহার বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ফেনসিডিল ও ইয়াবার দাম বেড়ে যাওয়ায় মাদকাসক্তদের একাংশ এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, আগে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে এমকাডিল ও ফেয়ারডিল নামের কাশির সিরাপের ব্যবহার বেড়েছিল। বর্তমানে এস্কাফ ও চকো সিরাপের অপব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ট্যাপেন্টাডল ব্যবহারের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
অধিদপ্তর ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী সীমান্তে এসব পণ্যের ছোট চালান জব্দ হচ্ছে। ফুলবাড়ীর নাওডাঙ্গা ও কাশিপুর এবং নাগেশ্বরীর রামখানা ও কচাকাটা এলাকা দিয়ে চালান আসার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ১ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাটেশ্বরী বাজারে অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল এস্কাফসহ আনিস নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ীর যতীন্দ্রনারায়ণ গ্রাম থেকে ১৫৭টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুজনকে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নাওডাঙ্গা থেকে ১৭ বোতল এস্কাফসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র আরও জানায়, গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরীর বিভিন্ন এলাকায় এস্কাফসহ কয়েকজনকে আটক করে বিজিবি ও পুলিশ। চালান আড়াল করতে কারবারিরা বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্যের প্যাকেট ব্যবহার করছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অজয় কুমার রায়ের মতে, এস্কাফ সেবনে ঘুমঘুম ভাব, কর্মস্পৃহা কমে যাওয়া, বিরক্তি এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন অপব্যবহারে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ট্যাপেন্টাডল ব্যথানাশক ওষুধ; নেশার উদ্দেশ্যে সেবনে আসক্তি তৈরি হতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, এস্কাফ ও ট্যাপেন্টাডল পাচার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ধারাবাহিক অভিযানে অনেক কারবারি গ্রেপ্তার হওয়ায় পাচার কমেছে। তবে জেলার বাইরে থেকেও ট্যাপেন্টাডল আসছে।
