কুড়িগ্রামে দীঘলকান্দি আবাসন প্রকল্পের ৩০ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন


HK প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ১:২৩ অপরাহ্ন /
কুড়িগ্রামে দীঘলকান্দি আবাসন প্রকল্পের ৩০ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের খোর্দ্দ বাঁশপাতা এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত দীঘলকান্দি আবাসন প্রকল্পের ৩০ পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৭ আগস্ট নদী ভাঙনের অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় মাইদুলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ওই পরিবারের ঘরের চালের টিন, দরজা-জানালা ও লোহার এঙ্গেলসহ মূল্যবান সামগ্রী তুলে নিয়ে গেছে।

৫৫ বছর বয়সি ফজল উদ্দীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “ভাত খেতে বসেছিলাম, হঠাৎ একদল লোক ঘরে ঢুকে সবকিছু তুলে নিয়ে যায়। বারবার অনুরোধ করেও তারা শোনেনি। এখন পরিবার নিয়ে খোলা জায়গায় থাকতে হচ্ছে।”

২০২০-২১ অর্থবছরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আবাসন প্রকল্পে ২০টি ব্যারাকে মোট ১০০ পরিবার আশ্রয় পেয়েছিল। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে চলতি বছরের জুনে ৭টি ব্যারাকের ৩৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাসিন্দারা কিছু মালপত্র সরিয়ে নেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য এসএম সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, প্রশাসন তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে মালপত্র উদ্ধার করে মাইদুলের হেফাজতে দিয়েছিল।

তবে নদী ভাঙন বর্তমানে বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আগস্টে আবারও ৬টি ব্যারাকের ৩০টি ঘরের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন। ইউপি সদস্য এসএম সেলিম মিয়া বলেন, “জুনে নদী ভাঙনের কারণে খোলা রাখা ঘরের মালপত্র মাইদুলের হেফাজতে দেওয়া হয়েছিল। এবার নদী শান্ত থাকা অবস্থায়ও সময় না দিয়ে ঘর ভেঙে মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি অফিস খরচের নামে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে।”

অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নেতৃত্বে কেউ ঘর ভাঙতে যায়নি। আমাকে জড়াতে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

অভিযোগ-প্রতিবাদের মধ্যেই প্রকল্পের পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন।