ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এম. আর. সাঈদ। গত ৫ নভেম্বর বিকেলে তিনি থানায় যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
এর আগে এম. আর. সাঈদ কুড়িগ্রাম জেলার ঢুষমারা থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর নিজ জেলা গাইবান্ধা। ভূরুঙ্গামারী থানায় তাঁর আগে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আজিম উদ্দিন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বার্তায় ওসি এম. আর. সাঈদ বলেন, “অত্র ভূরুঙ্গামারী থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
নতুন ওসির দায়িত্ব গ্রহণে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের কিছু এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকা এবং নদীপথসহ বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মাদক, মোবাইল ফোন, ডিসপ্লে, ভারতীয় গরু, প্রসাধনী ও মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে আনা-নেওয়া হয়। এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি অর্থ লেনদেনে যুক্ত ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী মহলের তদবির কিংবা পুলিশ ও পুলিশের সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। জমিজমার বিরোধ মীমাংসার নামে হয়রানি, মামলা গ্রহণে অনীহা এবং আসামি ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রভাব খাটানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়েন। এমন পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, সে জন্য অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্তভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জননিরাপত্তা জোরদারে সিসি ক্যামেরা পুনরায় স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, একসময় ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে জামতলা হয়ে সাদ্দাম মোড় পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। থানা থেকে সেগুলো মনিটরিং করা হতো। এতে ওই এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলত। বর্তমানে ক্যামেরাগুলো খুলে রাখা হয়েছে। তাই আগের মতো ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত মনিটরিং চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা নতুন ওসিকে স্বাগত জানিয়ে পেশাদার পুলিশি সেবার প্রত্যাশা করেছেন। তাঁদের মতে, অপরাধবিরোধী অভিযান ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তথ্যের স্বচ্ছতা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সংবাদকর্মীদের সঙ্গে পেশাগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ওসি এম. আর. সাঈদের নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।






