
ডেস্ক নিউজ
আমন ধান ও আগাম শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম চলছে। এ সময় কুড়িগ্রামে দেখা দিয়েছে সারের সংকট। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এর আগে ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদামে হামলা ও সার লুটের ঘটনা ঘটে। অন্য একটি ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ড পর্যায়ে সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
ভূরুঙ্গামারীর লক্ষ্মীর মোড় এলাকায় দেখা যায়, ডিলারের কাছে অল্প পরিমাণ সার রয়েছে। ফলে অনেক কৃষক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ডিলার মতিয়ার রহমান জানান, তার কাছে মোট ৪০ বস্তা সার ছিল। এর মধ্যে ৩০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা টিএসপি ছিল। তবে ইউরিয়া ছিল না।
কৃষকের সংখ্যা বেশি থাকায় সবাইকে নির্ধারিত পরিমাণে সার দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রায় ২০০ কৃষক সার না পেয়ে ফিরে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষকরা জানান, জমির জন্য তাদের ইউরিয়া ও ডিএপি প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে টিএসপি দেওয়া হচ্ছে।
এতে জমিতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সার প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
সাত বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন রাশেদা বেগম। পাশাপাশি তিনি এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করছেন।
রাশেদা বেগম বলেন, তার ইউরিয়া ও ডিএপি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি মাত্র এক বস্তা টিএসপি পেয়েছেন।
একই অভিযোগ করেন ধান ও বেগুন চাষি নুরুজ্জামান ও নুরুদ্দিন।
বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ডিলারের পরিচিত ব্যক্তিরা সহজে সার পাচ্ছেন।
তবে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ডিলার প্রতিনিধি আবুল হাশেম জানান, সম্প্রতি তারা বিভিন্ন ধরনের সার পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৭২ বস্তা ডিএপি, ১৭৮ বস্তা এমওপি এবং ৬০ বস্তা ইউরিয়া রয়েছে।
এ ছাড়া ৯৫ বস্তা টিএসপিও পাওয়া গেছে। এসব সার ওয়ার্ড পর্যায়ের খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরবরাহ কম থাকায় ইউরিয়ার একটি অংশ পরে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে।
দুধকুমার নদের চরে এবার বেগুনের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এ কারণে ওই এলাকায় সারের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে ৯টি উপজেলায় আমন আবাদ হয়েছে।
জেলায় প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৩ হাজার ৭৮৪ টন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৪৮৩ টন।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম।
একই সময়ে টিএসপির চাহিদা প্রায় ৬ হাজার ১৬৪ টন। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২ হাজার ১০৪ টন।
ডিএপির চাহিদা প্রায় ১০ হাজার ৯০৫ টন। বিপরীতে বরাদ্দ মিলেছে ৫ হাজার ৬৭ টন।
ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদের তীরবর্তী গনাইয়ের কুটি চরে বেগুনের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক বেগুনের খেতে কাজ করছেন। কয়েকজন কৃষক প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তারা জানান, রাসায়নিক সার না পেয়ে জৈব সার ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ ম্যাগনেসিয়ামও ব্যবহার করছেন।
কিছু কৃষক ইউরিয়ার পরিবর্তে ডিএপি ব্যবহার করছেন। এতে উৎপাদন নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, কোন ফসলে কতটুকু সার প্রয়োজন তা নিয়ে পরামর্শ কম পাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমন মৌসুমে সব জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োজন হয় না।
আগের ফসলের অবশিষ্ট উর্বরতার কারণেও ইউরিয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। নিয়মিত বৃষ্টির কারণেও কিছু জমিতে বাড়তি সার প্রয়োজন হয় না।
তিনি জানান, ভূরুঙ্গামারীতে আগাম বেগুনের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত ৬০০ টন সার চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার দাবি, জনবল সংকট রয়েছে।
এ কারণে প্রত্যেক কৃষকের জমিতে সরাসরি গিয়ে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আপনার মতামত লিখুন :