
সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী
আতঙ্ক আর হুমকি পিছু ছাড়ছে না চিলমারীর। হঠাৎই ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের মুখে কালিরকুড়া টি-বাঁধ, ডানতীর রক্ষা প্রকল্প ও কাঁচকোল এলাকার প্রায় ২ কি.মি. ওয়াপদা বাঁধ। পানি বাড়লেই আতঙ্ক বাড়ে। টি-বাঁধের দু’ধারে রক্ষা প্রকল্পের পিছিং সংযুক্ত না থাকায় ভাঙন আতঙ্ক বেড়েছে দ্বিগুণ। সঠিক সময় সঠিক পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করেন না পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয়রা জানান, কাজে অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে আজ আতঙ্ক কমছে না। জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারীর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের মুখে পড়েছে ফকিরেরহাট টি-বাঁধ, ডানতীর রক্ষা প্রকল্পসহ কাঁচকোল এলাকার প্রায় ২ কি.মি. ওয়াপদা বাঁধ। সেইসঙ্গে ভাঙনের মুখে কাঁচকোল বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ কয়েকটি গ্রাম। হঠাতই পানি বৃদ্ধির কারণে টি-বাঁধের ডান দিকে প্রকল্পে ভাঙন দেখা দেয়ায় পুরো এলাকায় ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে। সামান্য নামে মাত্র কিছু জিও ব্যাগ ফেলানো হলেও প্রতি বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক বেড়ে যায়। জিও ব্যাগ ফেলানোর সময় বরাদ্দের চেয়ে কৌশলগতভাবে কম ফেলানো হয় এবং নেয়া হয় অনিয়মের আশ্রয়।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, টি-বাঁধ আর ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো চিলমারী পড়বে ভাঙনের মুখে। বিলীন হবে শত শত গ্রাম। ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের দুই পাশের পিছিং টি-বাঁধের সাথে সংযুক্ত করে ধসের স্থান গুলো মেরামতসহ ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করলে রোধ হবে ভাঙ্গন।
টি-বাঁধ এবং ওয়াপদা বাঁধ ভেঙ্গে গেলে সড়ক, রেলপথ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, সরজমিন গিয়েছিলাম এবং ভাঙ্গন রোধে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। ভাঙ্গন রোধে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :