বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের হানাদার মুক্ত দিবস

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক ।। হামার কুড়িগ্রাম


আজ ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রামকে পাক-হানাদার মুক্ত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।


এই দিনে মুক্তিবাহিনীর কে ওয়ান এফএফ কোম্পানি কমান্ডার বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে ৩৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল বিকেল ৪টায় কুড়িগ্রাম শহরে প্রথম প্রবেশ করেন। এরপর তারা নতুন শহরের ওভার হেড পানির ট্যাংকের ওপরে (বর্তমান সদর থানার উত্তরে অবস্থিত) স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় বিজয়বার্তা। সেদিন বিজয় মিছিলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে হাজারো মুক্তিকামী মানুষ রাস্তায় নেমে এসে মিলিত হয় জাতির সূর্য সন্তাদের সঙ্গে। ২৩০ দিন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয় উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রাম।

বিজ্ঞাপন


জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা। ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলা ছিল ৮টি থানা নিয়ে গঠিত একটি মহকুমা। ১৯৭১ সালের ১০মার্চ মহকুমা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। ১৭ মার্চ স্থানীয় ছাত্র নেতারা চিলড্রেন পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্র আঁকা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। ২৫ মার্চের কাল রাতের পর সংগ্রাম কমিটি ২৮ মার্চ গওহর পার্ক ময়দানে জনসভা করে বেসরকারি হাইকমান্ড গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। ৩০ মার্চ রংপুরের ইপিআর উইং-এর সহকারী অধিনায়ক ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন কিছু সঙ্গী-সাথী নিয়ে কুড়িগ্রামে চলে আসেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ১ এপ্রিল থেকে তিস্তা নদীর পূর্বপাড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৪ এপ্রিল পাকবাহিনী দালালদের সহযোগিতায় তিস্তা নদী পাড় হয়ে লালমানিরহাট দখল করে নেয়। এরপর পাক বাহিনী ৭ এপ্রিল এবং ১৪ এপ্রিল দু’বার কুড়িগ্রাম দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০ এপ্রিল কুড়িগ্রাম শহর দখল করে নেয়।


এরপর থেকে দেশ মাত্রিকাকে মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে জুলাই মাস থেকে গেরিলা যুদ্ধ করে। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালনা করতে থাকে একের পর এক সফল অভিযান। ১৩ নভেম্বর উলিপুরের হাতিয়ায় পাকবাহিনী গণহত্যা চালায়। এদিন পাকবাহিনী পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৭৩৪জন নিরীহ মানুষকে দাগারকুটি বধ্যভূমিতে জড়ো করে হত্যা করে। ১৪ নভেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়ে জেলার ভূরুঙ্গামারী, ২৮ নভেম্বর নাগেশ্বরী, ৩০ নভেম্বর সমগ্র উত্তর ধরলা এবং ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম শহরসহ সমগ্র জেলা হানাদার মুক্ত করে। এদিন দুপুরে পাক সেনারা দুপুর নাগাদ রেল পথে কুড়িগ্রাম ত্যাগ করে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় কুড়িগ্রাম জেলার অর্ধেক অংশ ছিল ৬ নং সেক্টর এবং বাকী অংশ ছিল ১১ নং সেক্টরের অধীনে। শুধুমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী থানা ছিল মুক্তাঞ্চল। সেখানেই চলত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী কুড়িগ্রামকে হানাদার মুক্ত করতে শহীদ হন ৯৯ জন মুক্তিযোদ্ধা।


বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: · ·

আরও সংবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য আমীর নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক আঃ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন

নভেম্বর 5, 2026

পোস্ট টি পড়া হয়েছে : 6

উলিপুরে আরআরএম ইপি নিয়োগ ঘিরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নভেম্বর 4, 2026

উলিপুর প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরআরএমইপি) আওতায় কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে […]

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েলকে কেন্দ্রের শোকজ

নভেম্বর 4, 2026

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।   গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জুয়েলের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতিবিরোধী অবস্থান গ্রহণ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কার্যকলাপে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ […]