কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগে দালাল ধরলেন ছাত্রনেতা, পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দিলেন


HK প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ১০:২০ অপরাহ্ন /
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগে দালাল ধরলেন ছাত্রনেতা, পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দিলেন

নিউজ ডেস্ক অনলাইন | ৪ই ডিসেম্বর ২০২৫

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগে আটক হওয়া দীর্ঘদিনের পরিচিত হাসপাতাল-দালাল নয়নকে কোনো তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। সংগঠনটি ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য এবং দালালচক্রকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা” হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল (৩ই ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেল ৪টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা ও দালালি সিন্ডিকেট সক্রিয় রাখার অভিযোগে নয়নকে আটক করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদর উপজেলা আহ্বায়ক খন্দকার আল ইমরান। পরবর্তীতে সদর পুলিশ ফাঁড়ির একটি ভ্যান ঘটনাস্থলে এলে দালাল নয়নকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দালালকে ছেড়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা শুনে সংগঠনটির জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেল সম্পাদক লোকমান হোসেন লিমন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, “আমি কলেজ মোড়ে সাংগঠনিক কাজে ছিলাম। ইমরানের ফোন পেয়ে হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি নয়নের কয়েকজন সহযোগীও উপস্থিত। পুলিশ তাদের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা করছিল বুঝতে পারিনি।”

পরে ছাত্রনেতাদের সামনেই দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রাজু দালাল নয়নকে মুক্তি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী ছাত্রনেতাদের প্রতিবাদের পরও তিনি বলেন—“নয়ন নির্দোষ, তাকে গ্রেফতারের মতো অপরাধ নেই”—এ মন্তব্য করে তাকে ছেড়ে দেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লোকমান হোসেন লিমন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে দালালচক্র সক্রিয়। আমরা নিয়মিত আন্দোলন করছি। কিন্তু কয়েকজন অসাধু পুলিশ সদস্য দালালদের সহযোগী হিসেবে কাজ করায় দৌরাত্ম আরও বেড়ে চলছে। নয়নকে ছেড়ে দেওয়াটা তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলেছে, হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য, রোগী ও স্বজনদের প্রতি হয়রানি এবং আর্থিক শোষণ বন্ধে কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

সংগঠনটি কুড়িগ্রাম সদর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে এ ঘটনার তাৎক্ষণিক ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে—যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তারা সদর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেল সম্পাদক হাসান জিহাদির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।