মোঃ জাকারিয়া হোসেন
জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ১৯ বছর। কিন্তু শারীরিক গঠন এখনো ছোট্ট শিশুর মতো। বয়সের সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের প্রতাপ বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহমেদ।
সরকারি প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র অনুযায়ী, রাজুর জন্ম ২৬ অক্টোবর ২০০৭। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। শুধু উচ্চতার বৃদ্ধিই থেমে যায়নি, তার হাতেও রয়েছে জটিলতা, যা দৈনন্দিন জীবনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
রাজুর বাবা মো. গোলাম মোস্তফা ও মা মোছা. রঞ্জিনা বেগম জানান, ছোটবেলায় রাজুর শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। পরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শারীরিক সমস্যার কারণে রাজুর লেখাপড়াও চতুর্থ শ্রেণির পর বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলে হয়তো তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সমস্যার পেছনে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি, জিনগত ত্রুটি বা অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ দায়ী হতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি।
রাজুর বাবা একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পিয়ন হিসেবে কর্মরত। ছয় সদস্যের সংসারে সীমিত আয়ে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বড় ছেলের একটি ছোট দোকান থাকলেও তা দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি ঋণের বোঝায় জর্জরিত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সংস্থার আর্থিক সহায়তা পেলে রাজুর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এ জন্য তারা জেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।






