
উপজেলা প্রতিনিধি, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের রৌমারী প্রেস ক্লাবে ঢুকে সাংবাদিককে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক—বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব রৌমারী শাখার সদস্য ও দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল কাইয়ুম—নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসআই শাহনেওয়াজ নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেলে প্রেস ক্লাবে বসে ল্যাপটপে সংবাদ লিখছিলেন আবদুল কাইয়ুম। সে সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহজালাল রানা, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদসহ সাত–আটজনের একটি দল হঠাৎ প্রেস ক্লাবে ঢুকে তাকে অশালীন গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। পাশাপাশি তাকে রৌমারী এলাকা ছেড়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পেছনে কারণ হিসেবে জানা গেছে, সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভা শেষে খাদ্যগুদামে লটারির মাধ্যমে আমন ধান সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় চাতাল বন্ধ থাকা, সিন্ডিকেটের প্রভাবসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একটি প্রভাবশালী মহল ক্ষুব্ধ হয়। তারই জের ধরে প্রেস ক্লাবের এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘবদ্ধভাবে ক্লাবে ঢুকে যে ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে, তা লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। ঘটনার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি বাবু ক্লাবে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দলটিকে বের করে দেন। বের হওয়ার সময়ও সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহজালাল রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা হয়নি। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, “প্রেস ক্লাবে গিয়ে সাংবাদিককে গালিগালাজ করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমি জেনেছি এবং তাদের শাসিয়েছি। সাংবাদিকরা আমাদেরই লোক, বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে।”
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :