ডেস্ক নিউজ
সার বিতরণে শৃঙ্খলা আনা এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি বরাদ্দের সার পৌঁছে দিতে কুড়িগ্রামে চালু করা হয়েছে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’। জেলার নয় উপজেলার মধ্যে চিলমারী উপজেলা দিয়ে শুরু হয়েছে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। আগামী রবি মৌসুমে পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এ কার্যক্রম চালুর কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে সার বিতরণ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেক কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। সার বিতরণে অনিয়ম, কৃষক নন এমন ব্যক্তিদের সার নেওয়া এবং ডিলার পর্যায়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগও ওঠে। এ পরিস্থিতিতে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে নতুন এই কার্ড চালু করা হয়েছে।
কার্ডে থাকবে কৃষকের বিস্তারিত তথ্য
‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ডে’ কৃষকের ছবি, নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জমির পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। কৃষক সার নেওয়ার সময় কার্ডে কোন ধরনের সার, কত পরিমাণ সার এবং কোন ফসলের জন্য তা নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য ও বিতরণের তারিখ লিপিবদ্ধ করা হবে।
এর ফলে একজন কৃষক নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু সার নিয়েছেন, তার হিসাব রাখা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, এতে প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করা সহজ হবে এবং কৃষক ছাড়া অন্য কারও সার নেওয়ার সুযোগ কমবে।
চিলমারীতে শুরু বিতরণ
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চিলমারী উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। উপজেলার প্রায় ৩২ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে কুড়িগ্রামের অন্যান্য উপজেলায়ও প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬২০ জন।
কৃষকদের অভিযোগ, কার্ড পেলেও সার মিলছে না
কার্ড চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কিছু কৃষক সার পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চিলমারীর কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, কার্ড সংগ্রহ করলেও ডিলারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না।
চিলমারীর কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু ডিলারের কাছে গেলে সার না থাকার কথা বলা হচ্ছে। ফলে কার্ড পাওয়ার পরও জমিতে সময়মতো সার দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
চর পাত্রখাতা এলাকার কৃষক বদিউজ্জামানও কার্ড সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তবে চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষি অফিস থেকে কার্ড নিতে কোনো অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। বাইরে থেকে কার্ড প্রিন্ট করালে প্রিন্টের জন্য খরচ হতে পারে।
সার সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগ
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত সারও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের কিছু নিচু জমি চাষের উপযোগী হয়েছে। সেখানে আমন ও রবি মৌসুমের আগাম সবজি চাষ শুরু হওয়ায় সারের চাহিদা বেড়েছে। এ বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় সেপ্টেম্বর মাসে নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ইউরিয়া সারও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সার বিতরণ করলে প্রকৃত কৃষকের পাশাপাশি অন্যরাও সার নেওয়ার সুযোগ পান। এতে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের তথ্য এবং প্রতিবার সার নেওয়ার হিসাব সংরক্ষণ করা হবে। আগামী রবি মৌসুমে এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।






