রৌমারীতে সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৫, ২০২৫, ৪:০২ অপরাহ্ন /
রৌমারীতে সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, চরশৌলমারী ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৩০টির বেশি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর ধরে একটি সেতুর অভাবে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা হলহলিয়া নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো, যা বর্ষা মৌসুমে হয়ে ওঠে দুর্ঘটনার ফাঁদ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা।

স্বাধীনতার পর থেকে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার পরিবর্তন হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—সংযোগ সেতুর বাস্তবায়নে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাজাইকাটা, শান্তিরচর, খড়ানির চর, গেন্দার আলগা, সোনাপুর, নামাজের চর, বাংলা বাজার, চর ইটালুকান্দা, লাউবাড়িসহ উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ও আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ আজও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এই অঞ্চলের চাষিরা। স্থানীয়রা জানান, বাঁশের তৈরি ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। বছরের একটি বড় সময় কাদামাটির পথ দিয়ে চলতে গিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা, মর্জিনা বেগম, মজিবর, সমশের আলীসহ অনেকেই জানান, বহু আন্দোলন, দাবি ও আবেদন সত্ত্বেও সেতুর বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের দেখা মেলে, কিন্তু পরে তারা আর খবর রাখেন না বলে অভিযোগ তাদের।

এই বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার জানান, স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে কাজাইকাটা এলাকায় ৩৬৩০ মিটার চেইনেজ এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরেই সেতু নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেতু ও রাস্তার উন্নয়ন হলে রৌমারী থেকে জেলা শহরে যাতায়াতে সময় কমে আসবে, বাড়বে নিরাপত্তা, কমবে খরচ। এতে উপকৃত হবেন সব শ্রেণির মানুষ, আর কষ্টের জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তির দিকে যাবে।