
নিউজ ডেস্ক
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মোঃ মাইদুল ইসলাম হামলা, বাধা ও মিথ্যা অপবাদের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মোঃ আরিফুল ইসলাম আপেল এবং তাঁর সহযোগী তিনজন (হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তি)-এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে সাংবাদিক মাইদুল ইসলাম চিকিৎসা নিতে গিয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। সে সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেলিম মিয়া নামের এক বাইরের ব্যক্তি বাধা দেন এবং ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সোহাগ মিয়া প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
পরে নিচে নামলে জাকির এসে যোগ দেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তারা দুজন সাংবাদিক মাইদুলকে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয়, অশালীন আচরণ করে এবং বলে— “কেন আসবে এখানে?” সাংবাদিক পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে কর্মচারীদের অবহিত করে। সেখানে জাকির হাসপাতালের কর্মচারীদের গালাগালি করতে দেখা যায়। কর্মকর্তা ডাঃ সায়েম-কে ফোন করলেও যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরদিন ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাংবাদিক মাইদুল হাসপাতালে ভর্তি এক প্রতিবেশীকে দেখতে গিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি দেখে ডেঙ্গু সংক্রান্ত তথ্য নিতে নার্সের ডিউটি রুমে জানান এ বিষয়ে ডাঃ সায়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

তথ্য দিতে সময় নার্স ডাঃ সায়েমকে ফোন না করে পরিসংখ্যানবিদ আপেলকে ফোন করেন। আপেল তখন মাইদুলকে চা খাওয়ার জন্য থাকতে বললে না করে। আপেল কয়েকবার নার্সকে ফোন করে সাংবাদিক আছে কিনা চলে গেছে।
তথ্য নিয়ে নিচে নামার পথে সাংবাদিক মাইদুলের সাথে ক্রসিং হয় আগের দিনের সেলিমের এবং পরে আপেলের সাথে দেখা। আপেল আবারও চা খাওয়ার কথা বলে, এ সময় মাইদুল গতকাল যে ছেলেটি হাসপাতালে বাধা দিয়েছে তার সম্পর্কে জানতে চাওয়া মাত্রই আপেল উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বলেন, “আমার কাছে টাকা চাচ্ছেন কেন, তিন হাজার টাকা চান কেন!” মুহূর্তেই সেলিম যুক্ত হয় ও মাইদুলকে হেনস্থা করা হয়েছে। পরে জাকির ও মেহেদী সেখানে উপস্থিত হয়ে আপেলের নির্দেশে হাসপাতালের পেছনে নিতে চায় ও ফোন ছিনিয়ে নিতে চায়।
সাংবাদিকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আপেলকে থামাতে বললেও তিনি উল্টো থানায় ফোন করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। এ সময় হাসপাতালের কর্মচারী লিমন ব্যাপারীও উপস্থিত ছিলেন।
পরে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের সামনেই আপেল পুনরায় দাবি করেন— মাইদুল নাকি তাঁর কাছ থেকে “ডেঙ্গু তথ্যের বিনিময়ে তিন হাজার টাকা” চেয়েছে। সাংবাদিক মাইদুল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হাসপাতালের কর্মচারী রফিকুল বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আপেল আমাকে ফোন দিয়ে বলে, মাইদুল ভাই নাকি ডেঙ্গু তথ্যের জন্য তিন হাজার টাকা চাইছে। পরে আমি আপেলকে বলি, মাইদুল ভাই এমন মানুষ না, তাকে নিয়ে অপপ্রচার করার দরকার নাই। আপনি ওখান থেকে কেটে পড়েন। ভাইয়ের সম্মান আছে, তাকে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।” পরে ঘটনা স্থলে গিয়ে পুলিশের সামনে মাইদুল ভাইকে ছেড়ে দিতে বলি।
তিনি আরও বলেন, “তিনি (মাইদুল) হাসপাতালের অনেক নিউজ করেছেন, কিন্তু কখনো টাকা তো দূরের কথা— একটা চাও খাননি। আমি ঘটনাটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দুঃখিত।” সতের বছর চাকরি বয়সে কারো সাথে এমন ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা সংগঠিত হয়ে সাংবাদিককে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট।”
সাংবাদিক মাইদুল ভূরুঙ্গামারী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স এবং রংপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাশ বিডি’ ও ‘উলিপুর ডটকম’-এর ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি, পাশাপাশি কুড়িগ্রামের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘হামার কুড়িগ্রাম’-এও নিয়মিত লিখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অনিয়ম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তিনি নির্ভীকভাবে কাজ করে আসছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, “ডেঙ্গু তথ্যের জন্য কোনো সাংবাদিক টাকা চাইতে পারে— এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপবাদ। প্রকৃতপক্ষে হাসপাতালের একটি অসাধু সিন্ডিকেট তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে নাটক সাজিয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :