ভূরুঙ্গামারী ইউএনও দপ্তরে জনসমস্যা সমাধানে প্রতি বুধবার ১১টা থেকে নিয়মিত গণশুনানি চলবে


HK প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৫, ২০২৫, ৯:৫০ অপরাহ্ন /
ভূরুঙ্গামারী ইউএনও দপ্তরে জনসমস্যা সমাধানে প্রতি বুধবার ১১টা থেকে নিয়মিত গণশুনানি চলবে

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জনগণের সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত গণশুনানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র-এর প্রত্যক্ষ উদ্যোগে প্রতি বুধবার সকাল ১১টা থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় সেবাপ্রার্থীরা তাদের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক প্রতিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব (স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক, সন্তান ও অভিভাবকের সমস্যা), সামাজিক সেবামূলক বিষয়, দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগসহ যেকোনো নাগরিক সমস্যা সরাসরি ইউএনওর কাছে তুলে ধরতে পারবেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুনানিতে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো সেখানেই নিষ্পত্তি করা হবে এবং জটিল বা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

গত সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে ১০ জন আবেদনকারীর অংশগ্রহণে প্রথম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র বলেন, “বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষ আমাদের কাছে আসে — কেউ বয়স্কভাতা বা প্রতিবন্ধীভাতার আবেদন করেন, কেউ আবার চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সাহায্য চান। কেউ জমি বা পারিবারিক বিরোধ, আবার কেউ মাদক বা নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ জানান। আমরা তাদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনি, পরামর্শ দিই এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন অনেক মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে উপজেলা অফিসে আসেন। কিন্তু প্রশাসনিক কাজ, মিটিং ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের কারণে সবার কথা শোনা সম্ভব হয় না। তাই সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট সময় রেখে নিয়মিত গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকে নিজের সমস্যা সরাসরি প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতে পারেন।”

ইউএনও দীপ জন মিত্র জানান, “গণশুনানি একটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণ আরও সচেতন হবে, প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হবে, এবং দুর্নীতি, মাদক, নারী নির্যাতনসহ সামাজিক সমস্যাগুলো প্রতিরোধে একযোগে কাজ করা যাবে।”

এদিকে, গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে তারা আশাবাদী। তাদের মতে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ সহজে প্রশাসনের কাছে নিজের সমস্যা জানাতে পারবে — যা সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সেবাপ্রাপ্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।