ভূরুঙ্গামারীতে হাতি দেখে আনন্দ, চাঁদাবাজি নয়—মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ


HK প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ৫:৩৭ অপরাহ্ন /
ভূরুঙ্গামারীতে হাতি দেখে আনন্দ, চাঁদাবাজি নয়—মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ

মোঃ মাইদুল ইসলাম ।। ভূরুঙ্গামারী 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো হাতি ও মাহুতদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ একে ‘চাঁদাবাজি’ বলে সমালোচনা করলেও, অনেকে এটিকে মানুষের ভালোবাসা ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এমনই এক দৃশ্য (৩০ অক্টোবর) সম্প্রতি দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর জীবন্ত হাতি দেখে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন। কেউ ছবি তোলেন, কেউ হাসিমুখে হাত নাড়েন, কেউ আবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাহুতকে কিছু টাকা দেন।

স্থানীয়রা জানান, টাকা দেওয়ার সময় কারও মুখে বিরক্তি বা ভয় ছিল না। বরং মনে হয়েছে, মানুষ ভালোবেসেই দিচ্ছে—এটা কোনো চাঁদাবাজি নয়।

একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, “এটা তো বহু পুরনো ঐতিহ্য। ছোটবেলায় দেখেছি আমাদের বাবা-চাচারাও হাতিকে টাকা দিতেন। একটা বিশাল হাতি পুষে রাখা সহজ নয়, মাহুতদেরও তো খরচ আছে।”

আরেকজন যোগ করেন, “সবকিছুতে রাজনীতি টানা ঠিক না। আমরা তো প্রতিদিন হাতি দেখি না, মানুষ মজা পায়—এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়।”

অনেকে আরও মনে করেন, হাতি দেখার জন্য সাধারণত চিড়িয়াখানায় যেতে হয়, যা গ্রামের মানুষদের পক্ষে সহজ নয়। ঢাকা বা রংপুরের মতো দূর শহরে যাওয়া ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাই যখন কোনো মাহুত হাতি নিয়ে গ্রামে আসে, তখন অনেকেই বাড়ি থেকে বের হয়ে সেটি দেখতে ভিড় জমায়। অনেক শিশুর জন্য এটি জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা—যে প্রাণী তারা এতদিন শুধু বই, কার্টুন বা মোবাইল-টিভিতে দেখেছে, সেটিকে সামনে পেয়ে তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়।

স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “এটা আসলে বিনোদন ও শিক্ষারও একটা মাধ্যম। শিশুরা বাস্তবে হাতি দেখে আনন্দিত হয়, জ্ঞানও বাড়ে।”

বিশ্লেষকদের মতে, যদি মাহুতদের আচরণ শান্তিপূর্ণ হয় এবং কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় না করা হয়, তবে এটিকে ‘চাঁদাবাজি’ বলা ঠিক নয়। বরং এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরই এক সুন্দর বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে হাতিওয়ালা বলেন “সরকারের কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে, বিভিন্ন মহলে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি হচ্ছে — এসব বিষয়ে তো কেউ তেমন করে কথা বলে না, কেও তুলে ধরে না। অথচ আমরা হাতি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরি, মানুষ হাতি দেখে খুশি হয়, বাচ্চারা আনন্দ পায় — এটাকেই এখন অনেকে ভুলভাবে দেখছেন। আমাদের তো কোনো নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, সরকারিভাবে কোনো সহায়তাও পাই না। মাঝেমধ্যে মানুষ যে ভালোবেসে কিছু টাকা দেয়, সেটা দিয়ে সংসার চালানো দুরের কথা হাতি পোষার খরচ মেটানো কঠিন।”