ভূরুঙ্গামারীতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গাঁজা ফেরত, টাকা ভাগাভাগিতে নেতাকর্মী ও এক দফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য ফাঁস


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ৮:৪৫ অপরাহ্ন /
ভূরুঙ্গামারীতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গাঁজা ফেরত, টাকা ভাগাভাগিতে নেতাকর্মী ও এক দফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য ফাঁস

মোঃ মাইদুল ইসলাম || ভূরুঙ্গামারী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার অভিযানের পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মাদক ফেরত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদের এক দফাদারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাথরডুবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন কামরুলের বাড়ি থেকে দফাদার আলম হোসেনের নেতৃত্বে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুরুজ্জামান ব্যাপারী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খলিলুর রহমান খলিল (ডিবি খলিল), ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজের সভাপতি কালাম, এবং বিএনপি নেতা ফারুক, হাফিজুর, হাসেম, শরিফুল কবির প্রমুখ মিলে প্রায় ২৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের সূত্রে তারা ওই বাড়িতে মাদক মজুত থাকার খবর পান। পরে নজরদারি চালিয়ে তালাবদ্ধ টয়লেট থেকে গাঁজাগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে মোটরসাইকেলে করে ওই মাদক সরিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গাঁজার মালিক সুজন নামের এক ব্যক্তি মাদক ফেরত চেয়ে অনুরোধ জানালে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। নগদ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর গাঁজা ফেরত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়ে।

পরদিন (২২ অক্টোবর) সকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা পাথরডুবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুরের কাছে দফাদার আলম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। চেয়ারম্যান লিখিত অভিযোগ চাইলে কেউ বাদী হতে রাজি না হওয়ায় অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সাবেক সমন্বয়ক রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এমন অভিযানের ফলাফল বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।”

পাথরডুবি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হযরত আলী বলেন, “বিষয়টি উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অপরাধী যেই হোক, দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর জানান, “দফাদারের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন— জনগণের সেবার দায়িত্বে থাকা একজন দফাদার কীভাবে এমন অপরাধে জড়াতে পারেন?

এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের হাতে প্রশাসনের আস্থার দায়িত্ব, তারাই যদি অপরাধে জড়ায়, তাহলে সমাজে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে।”

এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।