ভূরুঙ্গামারীতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ১:৩৪ পূর্বাহ্ন /
ভূরুঙ্গামারীতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মোঃ মাইদুল ইসলাম ।। ভূরুঙ্গামারী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক ও মুক্তিযোদ্ধা পার্কের সামনে পার্কিং এলাকায় অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মন্ডল, আব্দুল আউয়াল বিএসসি, ফজলার রহমান, মকবুল হোসেন, মনসুর রহমান, এটিএম শাহজাহান মানিক, মহিউদ্দিন আহমেদ, মজিবুর রহমান ও মহির উদ্দিনসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ইব্রাহীম, মিজান শিকদার, লিটন মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য কাজী নিজাম ও আসাদুল হক মঈনুসহ স্থানীয়রা নির্মাণকাজে বাধা দেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছে। ভবনের সামনে পার্কিং এলাকা রাখা হয়েছে, যাতে সরকারি-বেসরকারি বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় যানবাহন রাখা যায়। কিন্তু কোনো সভা বা অনুমতি ছাড়াই কিছু মুক্তিযোদ্ধা ঐ জায়গায় অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।

তারা আরও জানান, ভবনের অপর পাশে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক ও পার্ক। পার্কিং এলাকা দখল করে আধাপাকা ঘর নির্মাণের ফলে এখন স্মৃতি ফলকটি আড়ালে চলে গেছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্মৃতির প্রতি অবমাননা করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

এ সময় বক্তারা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁদের মর্যাদা ও স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক ও স্থাপনা দখল মেনে নেওয়া হবে না।”

ভূরুঙ্গামারী-বাগভান্ডার সড়কের জামতলার পশ্চিমে প্রধান সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও বিপরীতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক ও পার্ক।

এ বিষয়ে জানা গেছে, ভবনের সামনে ও স্মৃতি ফলকের পার্কিং এলাকায় ঘর নির্মাণের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর মন্ডল, সাইফুর রহমান, আব্দুল মজিদ সরকার, শামসুর রহমান ও মতিন সরকারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সম্পৃক্ত রয়েছেন। তারা নতুন ও পুরাতন কমিটির সদস্য বলেও জানা গেছে।

তারা দাবি করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা ফান্ডে অর্থ জমা করার উদ্দেশ্যে তিনটি রুম নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এতে জামানতের টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করেছেন যে, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সভা বা রেজুলেশন হয়নি।

তারা আরও জানান, পার্কিং এলাকায় ঘর নির্মাণের কাজে পিআইও অফিস থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং এডিবি থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং স্মৃতি ফলকের মূল কাঠামো রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও অবৈধ নির্মাণ বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।