ভূরুঙ্গামারীতে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত


HK প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ৯:০২ পূর্বাহ্ন /
ভূরুঙ্গামারীতে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভূরুঙ্গামারী (তৎকালীন ভূরুঙ্গামারী থানা) প্রথম হানাদারমুক্ত উপজেলা হিসেবে স্বাধীনতার স্বাদ পায়। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে শুক্রবার দুপুরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম শাহজাহান মানিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র, এবং ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব সভাপতি আনোয়ারুল হক। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন রফিকুল হাসান রনজু।

বক্তারা বলেন, ভূরুঙ্গামারী দেশের প্রথম মুক্ত উপজেলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তারা জানান—
১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে মিত্রবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটির দিকে কামানের গোলা নিক্ষেপ শুরু করে। একই সময়ে মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমান আকাশে চক্কর দিয়ে শত্রুপক্ষের ওপর গোলাবর্ষণ করে। ত্রিমুখী আক্রমণে পাকিস্তানি সৈন্যরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। দিনভর তুমুল লড়াইয়ের পর ১৪ নভেম্বর সূর্যোদয়ের আগেই তাদের গোলা বর্ষণ থেমে যায়।

পরে মুক্তিযোদ্ধারা স্লোগান দিতে দিতে ভূরুঙ্গামারীতে প্রবেশ করে। তৎকালীন সিও অফিসের (বর্তমান উপজেলা পরিষদ চত্বর) একটি কক্ষ থেকে ১৫–১৭ জন এবং ভূরুঙ্গামারী হাই স্কুলের একটি কক্ষ থেকে ১৫–১৬ জন নির্যাতিতা নারীকে জীবিত উদ্ধার করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।