বিলে বাঁধ দেওয়ায় ২৫০ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা – কৃষকের ফসল রক্ষার অভিযোগ


hamarkur6 প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৮, ২০২৫, ২:১৮ অপরাহ্ন /
বিলে বাঁধ দেওয়ায় ২৫০ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা – কৃষকের ফসল রক্ষার অভিযোগ

মোঃ মাইদুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ব্যাঙ্গের দোলা নামক বিলে মাছ চাষের নামে বিলের মাঝখানে এবং দুটি সেতুর সামনে বাঁধ নির্মাণ করায় শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

নির্ধারিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সদ্য রোপণকৃত আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে পচে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর পুত্র জুয়েল ব্যাঙ্গের দোলা বিলে বাঁধ নির্মাণ করে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করেন। অন্যদিকে একই এলাকার আমজাদ হোসেনের পুত্র রেজাউল করিমও বিলের পানি প্রবাহের পথে দুটি সেতুর নিচে বাঁধ দিয়ে রেখেছেন। ফলে উজানে প্রায় ২৫০ বিঘা জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং কৃষকের রোপণকৃত ধান নষ্ট হওয়ার পথে।

জমির মালিক নজির হোসেন, এনামুল, ফজলুল হক, আলম, হাসেম, আমিনুর ও রফিকুল জানান, জমি পানিতে ডুবে থাকায় ধানের চারা পচে যাচ্ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। কৃষক নজির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাঁধ দেওয়ায় আমার চার বিঘা জমির ধানের চারা পানির নিচে। এক গোছা ধানও এবার হয়তো বাঁচাতে পারব না। ধান না হলে পরিবার নিয়ে খাব কী?”

মাছ চাষকারী জুয়েল জানান, “এই বিলের প্রায় ৯০ শতাংশ জমি আমাদের। তাই বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছি। পূর্বে পানি নিষ্কাশনের জন্য জমি সংস্কারের কথা বলেছিলাম, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। সেচের পাইপ বসাতে রাজি ছিলাম, কিন্তু তারা যোগাযোগ করেনি।”

তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, “বাঁধ নির্মাণের ঘটনা আমি সরেজমিনে দেখেছি। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গ্রামপুলিশ দিয়ে সেতুর নিচের বাঁধ কয়েকবার অপসারণ করেছি। কিন্তু পুনরায় বাঁধ দেওয়ায় জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সারোয়ার তৌহিদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”