
নিউজ ডেস্ক অনলাইন
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার সুপার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় খন্দকার আরিফ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন আগে অফিস সহকারী পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার কারণে ১৭ বছর আগে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। নিম্ন আদালতে রায় পেলেও কর্তৃপক্ষ আপিল করে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল।
বর্তমান সুপারের দাবি, সাবেক সুপারের অবসরের পর মামলার দায়ভার তার ওপর আসে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মধ্যস্থতায় হাইকোর্টে গিয়ে মামলা প্রত্যাহারে সহযোগিতা করেন তিনি। এমনকি আরিফের সুবিধার্থে আদালতের মামলা খারিজের প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করেন। তবে শর্ত ছিল—আরিফকে স্থানীয় কলেজের চাকরি ছেড়ে মাদ্রাসায় যোগ দিতে হবে, কারণ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যায় না। কিন্তু আরিফ কলেজের চাকরি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসায় তার পুনঃনিয়োগ সম্ভব হয়নি।
সুপারের ভাষ্য,
“যেহেতু আরিফ কলেজের চাকরি ছাড়েনি, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে মাদ্রাসায় পুনঃনিয়োগ দেওয়া যায়নি। আমি বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করেছি। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে নানা জায়গায় সুপারিশ করতে থাকে। সফল না হয়ে এখন উন্মাদের মতো আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।”
সম্প্রতি আরিফ সুপারের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং ছয় লাখ টাকায় চাকরি বহাল রাখার প্রস্তাবের অভিযোগ করেছেন। তবে সুপার এসব অভিযোগকে “সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন।
তিনি আরও বলেন,
“নিজ স্বার্থে আরিফ আমাকে দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিয়েছে। এমনকি ঢাকা যাতায়াত খরচও সে বহন করেছে। এখন চাকরিতে ফিরতে না পেরে উল্টো আমার নামে অপপ্রচার করছে। এভাবে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে মানহানি করার চেষ্টা করছে।”
এ ঘটনায় সুপার ইতোমধ্যে রাজারহাট থানায় জিডি করেছেন এবং দ্রুত আরিফের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আদালতের রায় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেও বাস্তবতা হলো—বহিষ্কৃত আরিফ একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করছেন। নিয়মবহির্ভূত এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এর মাধ্যমে শুধু মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নয়, বরং এলাকার শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :