হামার কুড়িগ্রাম

প্রেমের টানে ভূরুঙ্গামারীতে নিখোঁজ কিশোরী , দিনাজপুর থেকে উদ্ধার

ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিখোঁজের প্রায় ছয় দিন পর ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দিনাজপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী আরেক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন থেকে ‘ফুলকুমারি’ (ছদ্মনাম) নামের ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় প্রথমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা করা হলে তদন্তে নামে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।

তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় এক ব্যক্তির সন্ধান পায় পুলিশ। ওই সিমটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কেনা হয়েছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। পরবর্তী অনুসন্ধানে ‘মনিকা’ (ছদ্মনাম) নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় মনিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৭ অক্টোবর ভোরে তাকে ভূরুঙ্গামারী থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধানে নতুন করে অভিযান শুরু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর থেকে এক নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিকার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় ফাতেমার বাড়ি থেকে নিখোঁজ কিশোরী ফুলকুমারিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে ওই বাড়িতে কিশোরীকে রাখা হয়েছিল।

উদ্ধারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফুলকুমারি জানায়, মনিকার প্রতি ভালোবাসা ও তার প্ররোচনায় সে বাড়ি ছেড়ে মনিকার কাছে চলে গিয়েছিল।

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভিযান তদারকি করা হয়েছে। প্রায় ছয় দিনের প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং ঘটনার আইনগত দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কুড়িগ্রামের আরো খবর

Exit mobile version