মোঃ আবু সাঈদ ইসলাম, নাগেশ্বরী
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী গোলেরহাট ফাজিল (বিএ) মাদ্রাসা দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সীমান্তঘেঁষা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি সময়ের পরিক্রমায় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের কাছে ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে ৪২ জন কর্মরত রয়েছেন এবং পড়াশোনা করছে ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী। মানসম্মত পাঠদান ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনার জন্য আসে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুরো প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে।
শুধু পাঠদান নয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাতেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। দীর্ঘ ৭০ বছরের বেশি সময়ের পথচলায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় সম্পদ এর বিশাল নিজস্ব ভূমি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাদ্রাসাটির মালিকানায় প্রায় ৩৬ বিঘা আবাদি জমি, প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের পুকুর এবং মূল ভবন ও খেলার মাঠসহ আরও প্রায় ৪ বিঘা জমি রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০ বিঘা বলে জানা গেছে।
এত দীর্ঘ ইতিহাস, শিক্ষার্থী সংখ্যা, সুনাম ও নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও জাতীয়করণ না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। প্রবীণ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, জাতীয়করণ করা হলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আরও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হবে।
কচাকাটা এলাকার সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তঘেঁষা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে ঐতিহ্যবাহী গোলেরহাট ফাজিল মাদ্রাসাটিকে দ্রুত জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও বিপুল সম্পদসমৃদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় এলে কচাকাটাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবে।






