
অনিল চন্দ্র রায় ।। ফুলবাড়ী
ধান ক্ষেতের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া মেঠো পথ ধরে সহপাঠি চাচাত ভাইসহ বাইসাইকেলের পিছনে চড়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল সাদিকুর রহমান সাদিক (০৮)।
এ সময় রাস্তা পাড় হতে থাকা বিষধর দারাশ সাপের উপর অজান্তেই উঠে যায় তাদের সাইকেলের চাকা। চালক চাচাত ভাই ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার দিলে ভয়ে সাইকেল থেকে লাফ দেয় শিশু সাদিক। আর এ সুযোগে সাদিকুর রহমান সাদিকের পায়ে কামড় বসিয়ে দেয় সাপটি।
পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে চাকার আঘাতে কিছুটা আহত সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে ভয়ে এবং সাপের কামড়ের বিষক্রিয়ায় তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিশু সাদিক। পরে পরিবারের লোকজন সাপসহ দ্রুত শিশুটিকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাতাড়ী গ্রামে। সর্পদংশনে আহত শিশু সাদিকুর রহমান সাদিক। সে ওই গ্রামের জাইদুল হকের ছেলে এবং বালাতাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০ টায় ফুলবাড়ী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে বিষধর সাপে দংশনে আহত শিশু শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান সাদিক চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সাদিকুর রহমানের দাদী জামেনা বেগম জানান, ‘আমার নাতিকে বিষধর সাপ দংশন করার ১০ মিনিটের মধ্যে সাপসহ ফুলবাড়ী হাসপাতালে এসেছি। বিষধর সাপটি দারাশের বাচ্চা। আল্লাহর রহমতে এখন অনেকটা সুস্থ। সবাই দোয়া করবেন যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে।’
সাদিকুরের বাবা জাহিদুল হক জানান, ‘বাড়ির থেকে একটু দূরে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি সাদিকুরকে সাপে কেটেছে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা দারাশ সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। পরে সাপসহ দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসা দেয়ার পর বর্তমানে তার জ্ঞান ফিরেছে। তবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি আমার ছেলে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে।’
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফিরোজ আহমেদ জানান, ‘দংশন করা সাপসহ রোগীকে নিয়ে আসায় দ্রুত তার চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে। তাকে সাপে কাটার সব ধরণের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ আছে, তবে সাপটি যেহেতু বিষধর, তাই তাকে কমপক্ষে তিনদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।’ তিনি আরও জানান, পরিবারটি অনেক সচেতন। তারা গ্রামে করিরাজ/ওঝার কাছে যায়নি। সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে বলে স্বজনদের অনেক ধন্যবাদ।
আপনার মতামত লিখুন :