
মোঃ মাইদুল ইসলাম || ভূরুঙ্গামারী
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরের হাতে একমাত্র ছেলের বউ মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ শিংঝাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিম ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে। এ ঘটনায় হাসপাতালে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
আহত গৃহবধূ মোছাঃ মোর্শেদা খাতুন জানান, সকালে তার স্বামী কাজে বাইরে গেলে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্বশুর তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তার বিয়ে হয়। এর আগেও শ্বশুর দুই-তিনবার তাকে মারধর করলেও তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ৬৫ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। এর আগে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছিলেন, তবে শ্বশুর নির্যাতন করতেন, অবশেষে তালাক দিতে বাধ্য করেছেন। সম্প্রতি যৌতুক হিসেবে একটি গরু আনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। না আনায় নানা সময়ে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকে অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। স্বামীর সংসারে সুখে শান্তিতে থাকতে চাইলেও তা পারছেন না।
ভিকটিমের স্বামী মোঃ জুয়েল বলেন, “আমি কাজে বাইরে ছিলাম। বাসায় ফিরে ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।” তিনি বিয়ের সময় যৌতুক নেওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, বাবার মাপিট করা ঠিক হয়নি। স্ত্রীর সম্পর্কে তিনি বলেন, “তার চরিত্র বা আচরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আমি চাই বউ-সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে সংসার করতে।” তবে তিনি আহত স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে আসেননি।
শ্বশুর মোবারক হোসেন বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৬৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ছেলের বউকে মারধর করা অন্যায় হয়েছে।”
জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উভয়পক্ষ তার কাছে এসেছিল। তবে মীমাংসার চেষ্টা করেও কাউকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :