চাকিরপশার বিলের অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা, পর্যটন সম্ভাবনা দেখছে স্থানীয় প্রশাসন


HK প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১১, ২০২৫, ৭:২০ অপরাহ্ন /
চাকিরপশার বিলের অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা, পর্যটন সম্ভাবনা দেখছে স্থানীয় প্রশাসন

সোহেল রানা, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাকিরপশার বিল এখন যেন এক অপার সৌন্দর্যের রাজ্য। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের পর বিলটি ফিরে পেয়েছে তার হারানো নৈসর্গিক রূপ। চারপাশে এখন চোখ জুড়ানো জলরাশি, পদ্ম-শাপলা, শালুক আর অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত প্রকৃতি।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু ব্যবসায়ী বিলের বিভিন্ন অংশ দখল করে তৈরি করেছিল মাছের ঘের ও স্থায়ী বসতি। এতে বিলের প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বৃহৎ পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। মোট ৫টি মৌজায় ৭০ একর আয়তনের বিলে দুই দফায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৯ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।

এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৫ মণ দেশীয় মাছের পোনা ছাড়া হয়, যা বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। বর্তমানে বিলজুড়ে ভেসে থাকা পদ্মফুল, শাপলা ও নীল আকাশের প্রতিবিম্ব একে করে তুলেছে যেন জীবন্ত এক শিল্পকর্ম।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ নৌকাভ্রমণে ব্যস্ত, কেউ আবার বিলের ধারে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ রূপ। এতে স্থানীয়দের জীবিকায়ও এসেছে পরিবর্তন। কেউ নৌকা ভাড়া দিচ্ছেন, কেউবা খাবার দোকান বা স্থানীয় পণ্যের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগে এই বিল শুধু মাছ ধরা আর কৃষিকাজের জন্যই ব্যবহৃত হতো। এখন প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে ঘুরতে। এতে এলাকার অর্থনীতি কিছুটা হলেও চাঙা হয়েছে।”

কাউনিয়া থেকে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী জসিম সরকার বলেন, “চাকিরপশার বিলের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এখানে এসে মনে হয় শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। যদি কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন হয়, তাহলে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে।”

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, “চাকিরপশার বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। শিগগিরই এখানে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।”

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা গেলে চাকিরপশার বিল উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পট হয়ে উঠতে পারে। এতে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, তেমনি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও।

এখন বিলজুড়ে পদ্মফুলের রঙ, পানির উপর ভাসমান নৌকা, নীল আকাশের প্রতিবিম্ব আর পাখির কূজন—সব মিলিয়ে চাকিরপশার বিল যেন এক জীবন্ত ছবির মতো। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি হয়ে উঠছে স্বর্গসদৃশ এক গন্তব্য।