হামার কুড়িগ্রাম

গণভোটের রায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা সালেহীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | Hamar Kurigram

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেছেন, প্রয়োজন হলে গণভোটের রায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও রাজপথে আন্দোলন হবে। তিনি বলেন, “আবু সাঈদ এখানে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে একটি বিপ্লব রচনা করেছি। আবার যদি রাজপথে রক্ত দিতে হয়, রংপুর সবার আগে থাকবে।”

শনিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে সালেহী বলেন, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি রংপুর কালেক্টরেট মাঠে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আর সুযোগ চাইবেন না। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি নীলফামারীর এক জনসভায়ও তিনি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ও প্রধান কাজ হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সালাউদ্দিন আহমেদ গণভোটের প্রস্তাব দিলেও এবং প্রধানমন্ত্রী গণভোটের পক্ষে ভোট চাইলেও বর্তমানে অজ্ঞাত কারণে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে অংশ নিয়েছেন, যা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। তাঁর দাবি, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের শক্তির বিপরীতে জনগণের দুই-তৃতীয়াংশের অবস্থান তৈরি হলে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি জাতীয় সংসদে নোটিশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও সরকার ভিন্ন নামে বা ভিন্ন প্রকল্পে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে তাঁর আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, “রংপুরবাসীর অবস্থান স্পষ্ট। যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) হয়েছে এবং যে পরিকল্পনার স্বপ্ন মানুষকে দেখানো হয়েছে, আমরা সেই তিস্তা মহাপরিকল্পনারই বাস্তবায়ন চাই। কোনো ব্যারেজ বা বিকল্প পরিকল্পনা আমরা মেনে নেব না।”

বক্তব্যের শেষাংশে সালেহী বলেন, “আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা একটি বিপ্লব রচনা করেছি। বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে, মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে, গণভোটের রায় কার্যকর করতে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আবার যদি রাজপথে রক্ত দিতে হয়, রংপুর সবার আগে থাকবে।”

Exit mobile version