বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

‘এবার গেলে কোথায় যাব’—তিস্তার ভাঙনে বিলীনের পথে বসুনিয়াপাড়া

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

উলিপুর প্রতিনিধি

‘বাড়ি সাতবার ভেঙেছে। আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এবার গেলে কোথায় যাব, যাওয়ার মতো জায়গাও নেই।’—তিস্তার তীরে বসে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন উলিপুরের দলদলিয়া ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা আবু বক্কর (৬৫)।গত ২০ দিনে তিস্তার তীব্র ভাঙনে বসুনিয়াপাড়া এলাকায় শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে আরও দুই শতাধিক পরিবার। ঝুঁকিতে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। একের পর এক বসতভিটা ও ফসলের জমি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন অন্যের জায়গায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। জীবিকার প্রধান অবলম্বন জমিও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন

বসুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা মহুবর রহমান (৬৫) বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে ভাঙন ঠেকাতে কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিন্তু তিস্তার স্রোতে সেগুলোও টিকতে পারেনি। এখন পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙন আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় এখনই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকাটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

৯০ বছর বয়সী সখিনা বেওয়া ও ৫০ বছর বয়সী আনোয়ারা বেওয়ার মতো অনেকেই ভাঙনে বাড়ি হারিয়ে অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।

স্থানীয় আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, নদীর দুই পাশে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও মাঝখানে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। যেভাবে নদী ভাঙছে, তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই বসুনিয়াপাড়া বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জিও ব্যাগ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বরাদ্দ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে শুধু বসতভিটা নয়, এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও ফসলি জমিও তিস্তার গর্ভে চলে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · · ·

আরও সংবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য আমীর নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক আঃ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন

নভেম্বর 5, 2026

পোস্ট টি পড়া হয়েছে : 8

উলিপুরে আরআরএম ইপি নিয়োগ ঘিরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নভেম্বর 4, 2026

উলিপুর প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরআরএমইপি) আওতায় কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে […]

ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ শিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

নভেম্বর 4, 2026

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের দায়ে আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধরলা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫ […]