হামার কুড়িগ্রাম

উলিপুরে ১৮ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে বায়নাকারীদের অভিযোগ

জাহিদ হাসান, উলিপুর

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৮ শতক জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ জনি ও ১২ জন বায়নাকারী। বায়নাকারীদের অভিযোগ, তাঁদের বায়না করা জমি গোপনে জনির কাছে বিক্রি করেছেন জমির মালিক। তবে জনির দাবি, তিনি জমির মালিকের কাছ থেকে জমি কিনে নামজারি করেছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষই আদালতে পৃথক মামলা করেছেন।

ঘটনাটি উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকায়। আদালতের আদেশে জমির দখল ও ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উভয় পক্ষকে নিয়ে তদন্তের কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় তদন্ত হয়নি।

এলাকাবাসী ও বায়নাকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে খামার বজরা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিউল আজমের কাছ থেকে ১৮ শতক জমি কেনার জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম মন্ডল রাজাসহ ১২ জন বায়নাপত্র করেন। তাঁদের দাবি, জমি বুঝে নিয়ে তাঁরা সেখানে ১২টি দোকান নির্মাণ করেন। পরে দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে বাবুরহাট বাজার গড়ে ওঠে। বায়নাকারীদের ভাষ্য, তাঁদের জমির পাশে একটি মসজিদ এবং পরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একটি গণশৌচাগারও নির্মাণ করা হয়।

বায়নাকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও শফিউল আজম তাঁদের জমি দলিল করে দেননি। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট তিনি জমিটি আবু সাঈদ জনির কাছে বিক্রি করেন। এরপর রেজাউল করিম মন্ডল রাজাসহ ১২ জন শফিউল আজমসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। বিষয়টি জানার পর জনিও আদালতে মামলা করেন। দুই পক্ষের মামলাই বর্তমানে চলমান।

বায়নাকারী রেজাউল করিম মন্ডল রাজা, ফয়েজ আহম্মেদ, নাজিম উদ্দিন ও নুর আলম বলেন, “আমরা ১২ জন মিলে জমি কেনার জন্য বায়নাপত্র করেছিলাম। নিজেদের খরচে মাটি ভরাট করে দোকান নির্মাণ করেছি এবং ব্যবসা করছি। শফিউল আজম একা জমিটি বিক্রি করতে পারবেন না—এ কারণে তিনি আমাদের দলিল করে দেননি। বাধ্য হয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি।”

অন্যদিকে, এনসিপির পেশাজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ জনি বলেন, “জমির মালিক আমার কাছে জমি বিক্রি করেছেন। আমি ১৮ শতক জমির নামজারি করেছি। আমার সাইনবোর্ড টাঙানোর পর তাঁরা তা সরিয়ে ফেলেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা জায়গায় ব্যবসা করছেন। জমি আমাকে দলিল করে দেওয়ার পর এখন তাঁরা নিজেদের জমি বলে দাবি করছেন। এ কারণে আমি আদালতে মামলা করেছি।”

আদালতের আদেশে জমির দখল ও ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নোটিশ দেন। মঙ্গলবার সকালে তদন্তের কথা থাকলেও কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় তা হয়নি বলে জানান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান। তাঁর ভাষ্য, বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।

Exit mobile version