
রৌমরী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘ ২৫ বছর সংস্কারহীন পড়ে থাকার কারণে এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই চাল ফুটো হয়ে ঘরে পানি পড়ে, দুর্ভোগে পড়ছে শতাধিক দরিদ্র, ভূমিহীন পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনে মরিচা ধরে জালের মতো ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ে ভিজে যাচ্ছে বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কোনো উপায় না পেয়ে বাসিন্দারা ইট আর কাগজ দিয়ে ছাউনি আটকানোর চেষ্টা করছেন। অনেকেই দুরবস্থার কারণে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
২০০১ সালে সাড়ে ৩ একর জায়গাজুড়ে ১৫০টি পরিবারকে বসবাসের সুযোগ করে দিতে নির্মিত হয় এ প্রকল্পটি। তবে এরপর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার হয়নি।
ঘরবাসী জামিরন বলেন, সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন এই ঘরে থাকা সম্ভব নয়। চালের টিন নষ্ট, বাতাস ঢোকে, পানি পড়ে। আমাদের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার, সেটুকুও নেই।
একই অভিযোগ করে বাসিন্দা সূর্যভান বেওয়া বলেন, ছাউনির টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি এলেই কাপড়-চোপড় ভিজে যায়। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। কেউ খোঁজ নেয় না।
আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি মো. রহিম বাদশা জানান, বারবার লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান কেউ করছে না।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার বলেন, টাপুরচরসহ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ অবস্থা আমরা দেখেছি। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র সংস্কার কাজ শুরু হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আব্দুল কাদের সরকার বলেন, সংস্কারের অভাবে প্রকল্পটি আজ মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যে উদ্দেশ্যে গৃহহীনদের ঘর দিয়েছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।
ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, ঘরগুলোর চালে বড় বড় ছিদ্র, সংস্কার জরুরি। আমি স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, এই মানুষগুলোর জীবনমান উন্নয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পের সঙ্গে কুঠির শিল্প যুক্ত করা হলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।
আপনার মতামত লিখুন :